Advertisement
E-Paper

আতঙ্ক কাটেনি, ঘরবন্দি শিক্ষিকা

ঘটনার পরে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক কাটেনি কেশপুর কলেজের নিগৃহীতা শিক্ষিকা সুপর্ণা সাধুর। শনিবারও কলেজ যাননি রসায়নের ওই শিক্ষিকা। আট বছরের মেয়েকে নিয়ে মেদিনীপুর শহরের বাড়িতেই ছিলেন। সুপর্ণাদেবী বলেন, “বুধবারের ঘটনা ভুলতে পারছি না। আমি এখনও আতঙ্কে রয়েছি।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ অগস্ট ২০১৬ ০১:০৪

ঘটনার পরে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক কাটেনি কেশপুর কলেজের নিগৃহীতা শিক্ষিকা সুপর্ণা সাধুর। শনিবারও কলেজ যাননি রসায়নের ওই শিক্ষিকা। আট বছরের মেয়েকে নিয়ে মেদিনীপুর শহরের বাড়িতেই ছিলেন। সুপর্ণাদেবী বলেন, “বুধবারের ঘটনা ভুলতে পারছি না। আমি এখনও আতঙ্কে রয়েছি।’’

গত সোমবার অসুস্থতার জন্য কলেজে যাননি সুপর্ণাদেবী। তারপর বুধবার কলেজে গেলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মানস ঘোষ গরহাজিরার কৈফিয়ত তলব করে সদলবলে গিয়ে সুপর্ণাদেবীকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। উত্তেজনায় জ্ঞান হারান ওই শিক্ষিকা। কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করতে হয়। অধ্যক্ষের মদতেই এই হেনস্থা বলে সুপর্ণাদেবীর অভিযোগ।

মানস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে টিএমসিপি সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শুক্রবার কলকাতায় টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে দলবল নিয়ে গিয়েছিলেন মানস। আগেভাগে তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতার সঙ্গে দেখাও করেন। কিন্তু ওই নেতা মানসকে ‘মাতব্বরি’র জন্য ধমক দেন। পরে জেলার এক প্রাক্তন ছাত্র নেতার সঙ্গে দেখা করে মানস বোঝানোর চেষ্টা করেন, এই ভুল আর হবে না। কিন্তু তিনিও মানসকে বুঝিয়ে দেন, ‘কেশপুরের ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়।’

টিএমসিপি সূত্রে খবর, কেশপুরের ছাত্র নেতাদের নিয়ে দিন কয়েকের মধ্যে বৈঠক করে মানসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। টিএমসিপি-র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভানেত্রী দেবলীনা নন্দী বলেন, “কেশপুরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হবে। বেচাল বরদাস্ত করা হবে না।’’ তবে মানস এ দিন মুখ খুলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, “আমি কিছু জানি না। আমাকে বিরক্ত করবেন না।”

সুপর্ণাদেবী তৃণমূলের কলেজ শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপা-র সদস্য। জানা গিয়েছে, কেশপুরের এই ঘটনায় ওয়েবকুপা-র অনেকেই বিরক্ত। তাঁরা শিক্ষিকার পাশে রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে কেউ সুপর্ণাদেবীকে আশ্বস্ত করেননি।

শিক্ষিকার অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কেশপুর কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, কেশপুর কলেজের অধ্যক্ষ দীপক ভুঁইয়া তাঁর বক্তব্য শুক্রবার লিখিত আকারে জানিয়েছেন। দীপকবাবু দাবি করেছেন, সুপর্ণাদেবীর হেনস্থায় তাঁর কোনও মদত ছিল না। উপাচার্য রঞ্জনবাবু বলেন, “শিক্ষিকার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।’’

সুপর্ণাদেবী অভিযোগ করেছিলেন জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা এবং জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষকেও। জেলাশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেন মহকুমাশাসককে। মেদিনীপুর সদরের মহকুমাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, ‘‘জেলাশাসকের নির্দেশ মতো খবর নিচ্ছি।’’

Teachers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy