মেদিনীপুরের জজকোর্ট রোডের এক সাইবার ক্যাফেতে ফর্ম পূরণের জন্য লাইন দিয়েছিলেন সুদীপ সাউ। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পরে কর্মচারী জানিয়ে দিলেন, লিঙ্ক নেই। অনলাইনে ফর্ম পূরণ হবে না।
জজকোর্ট রোডে ফুটপাথের কাজ চলছে। রাস্তার ধারে মাটি খুঁড়তে গিয়ে কেব্লে কোপ পড়ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে বিএসএনএলের সংযোগ। তাতেই বিপত্তি। সুদীপ বলছিলেন, ‘‘এখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার ফর্ম পূরণ অনলাইনে হয়। এ ভাবে মাঝেমধ্যে লিঙ্ক চলে গেলে তো সমস্যা!’’ বিএসএনএল কর্তৃপক্ষও মানছেন, ফুটপাথের কাজ করতে গিয়ে কেব্লে কোপ পড়ছে বলেই এই বিভ্রাট।
শুধু ইন্টারনেট পরিষেবা নয়, সমস্যা হচ্ছে টেলিফোন সংযোগের ক্ষেত্রেও। গত কয়েক দিনে মেদিনীপুর শহরের বেশ কিছু এলাকায় ল্যান্ডলাইন, ইন্টারনেট সংযোগ বিকল হয়ে গিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির জেলে কেব্লে কোপ পড়ে সমস্যা হয়েছে। মির্জাবাজারের এক বাসিন্দার কথা, ‘‘টেলিফোন, ইন্টারনেট ছাড়া এখন একটা দিনও চলে না। সেখানে এমন হলে তো সমস্যা।’’
শহরের নানা জায়গায় ফুটপাথ তৈরি করছে মেদিনীপুর পুরসভা। এ জন্য এক ঠিকাদার সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরসভা আর বিএসএনএলের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ভুগছেন টেলিফোন গ্রাহকরা। এই প্রথম নয়। আগে পূর্ত দফতর যখন রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছিল তখনও এই সমস্যা দেখা দেয়। এখন ফুটপাথ তৈরির জন্য ফের এক ছবি। বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কবে কোন রাস্তা খোঁড়া হবে তা আগে থেকে জানানো হয় না। জানানো হলে তখন দফতরের কর্মীরা হাজির থাকতে পারেন। তাহলে বিপত্তি এড়ানো যায়। কারণ, রাস্তার নীচে কোথায় কেব্ল রয়েছে তা কর্মীরা জানেন। অন্য দিকে পুর-কর্তৃপক্ষের দাবি, বিএসএনএল ঠিকমতো কেব্ল না বসানোয় সমস্যা হচ্ছে।
মেদিনীপুরের এসডিওটি (বিএসএনএল) বিলাস ঘোষ বলেন, “আগে থেকে জানানো হলে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু তা হচ্ছে না। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে গ্রাহকেরা অসন্তুষ্ট হচ্ছেন। সেই অসন্তোষ সামলাতে হচ্ছে আমাদের।” দফতরের অন্য এক কর্তার আবার দাবি, রাস্তা খোঁড়ার সময় সমন্বয় রেখে কাজের প্রস্তাব আগেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। ওই কর্তার কথায়, “সব তছনছ হয়ে গেলে সহজে তার জোড়া যায় না। আমাদের কর্মীও কম। ফলে, দ্রুত মেরামতির কাজ করে ওঠা সম্ভব হয় না।’’
পুরসভা অবশ্য দায় চাপাচ্ছে বিএসএনএলের ঘাড়ে। মেদিনীপুরের উপপুরপ্রধান জিতেন্দ্রনাথ দাসের বক্তব্য, “কিছু এলাকায় বিএসএনএল নিয়ম না মেনে কেব্ল রেখেছে। মাটি খুঁড়ে এক মিটার নীচে কেব্ল বসানোর কথা। কিন্তু তা করেনি।” উপপুরপ্রধানে যুক্তি, “ফুটপাথের জন্য ছয় থেকে দশ ইঞ্চি মাটি খোঁড়া হচ্ছে। বিএসএনএলের কেব্ল এক মিটার নীচে থাকলে এই সমস্যা হত না।”
এ দিকে, খোঁড়াখুঁড়িতে অসন্তুষ্ট পুলিশও। রাস্তা খোঁড়ায় মাঝেমধ্যে যানজট হচ্ছে। তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ কর্মীদের। এক পুলিশ কর্তার কথায়, “কোন রাস্তা কবে খোঁড়া হবে তা আগে থেকে জানা থাকলে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যানজটের খবর পেয়ে পুলিশকর্মীরা যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পথচলতি মানুষের অসন্তোষের কথা শুনতে হচ্ছে।”