চিকিৎসার গাফিলতিতে এক ১৭ বছরের রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর এলাকার একটি নার্সিংহোমে। রবিবার তার জেরে উত্তেজনা ছড়ায় নার্সিংহোম চত্বরে। অভিযোগ, মৃতের পরিজনেরা ভাঙচুর চালান। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সময় জখম হন কয়েকজন পুলিশ কর্মী-সহ দুই সাংবাদিক। এই ঘটনায় বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে দাসপুর থানার পুলিশ। মৃতদেহটিকে নার্সিংহোম থেকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে খবর, দাসপুর থানার পাঁচবেড়িয়া এলাকায় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয় সুশান্ত মাঝি (১৭)। সুশান্তের বাড়ি দাসপুরের সাহাপুরে। বাবা অশোক মাঝি পেশায় গ্রামীণ চিকিৎসক। শনিবার বিকেলে দুর্ঘটনায় বাঁ হাত ভেঙে যায় সুশান্তের। তাকে ভর্তি করা হয় একটি নার্সিংহোমে। পরিবারের অভিযোগ, রোগীর পরিস্থিতি নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানাননি। অপারেশন থিয়েটারেই সুশান্তের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে রোগীর পরিজনেরা নার্সিংহোমের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দাসপুর থানার পুলিশ। তাদের লক্ষ্য করে উত্তেজিত জনতা ইট ছুড়তে থাকে। ইটের আঘাতে আহত হন কয়েক জন পুলিশকর্মী এবং দুই সাংবাদিক। পুলিশকর্মীদের চিকিৎসা চলছে ওই নার্সিংহোমেই। তাঁদের মধ্যে এক পুলিশকর্মীকে স্থানান্তরিত করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন ঘাটালের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) গায়কোয়াড় নিলেশ শ্রীকান্ত, দাসপুর থানার ওসি অঞ্জনি তিওয়ারি-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী।
উত্তেজিত জনতা ঘাটাল পাঁশকুড়া রাজ্য সড়ক অবরোধ শুরু করে। পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।