E-Paper

যুব সাথী নিয়ে জানতে ভিড় কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে, বিভ্রান্তি

ঝাড়গ্রাম ব্লকের দুধকুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিয়াধর গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় মাহাতো বুধবার দুপুরে হাজির হয়েছিল জেলা কালেক্টরেটের কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে।

রঞ্জন পাল

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫১
যুবসাথীর ফর্ম  নেওয়ার লাইন।

যুবসাথীর ফর্ম নেওয়ার লাইন। ফাইল চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে যুব সাথী প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। কথা ছিল, ১ এপ্রিল থেকে টাকা পাবেন আবেদনকারীরা। তবে গত ৭ মার্চ ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখনই যুব সাথীর টাকা দেওয়া হবে। যদিও বুধবার পর্যন্ত অনেকেই তা পাননি। এই পরিস্থিতিতে কবে টাকা ঢুকবে জানতে অনেকেই হাজির হয়ে যাচ্ছেন কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে। অনেকে সমস্যা জানিয়ে ই-মেলও করছেন তাদের। যদিও ঘটনা হল, যুব সাথীর সঙ্গে সঙ্গে কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রের কার্যত কোনও সম্পর্ক নেই।

ঝাড়গ্রাম ব্লকের দুধকুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিয়াধর গ্রামের বাসিন্দা চিন্ময় মাহাতো বুধবার দুপুরে হাজির হয়েছিল জেলা কালেক্টরেটের কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে। তিনি বলছেন, ‘‘গত ৮ মার্চ মেসেজে ঢুকেছিল ৯ মার্চ অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে বলে। তার পর ৯ তারিখ মেসেজ ঢুকেছে, পেমেন্ট ফেল হয়ে গিয়েছে। এই জন্য নির্দিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’’ তিনি জানান, বিষয়টি জানতে ব্লক অফিসে (বিডিও) গিয়েছিলাম। সেখানে যেতে বলল ট্রেজারি যেতে। সেখান থেকে বলে কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে যেতে। সেখানে গিয়েও সমাধান কিছু হয়নি। বিনপুর-১ ব্লকের আঁধারিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গল হেমব্রমও একই সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বলছেন, ‘‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের শেষ দু’টো নম্বর মিলছে না বলে আমার ফোনে মেসেজ এসেছে।’’ তিনি জানান, ব্লক অফিস যেতে কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে যেতে বলেছিল। সেখানে গিয়ে জানা গেল কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে যুবশ্রীর কাজ হয়, যুব সাথীর নয়। চিন্ময়, মঙ্গলের মতো আরও অনেকেই এই সমস্যায় পড়ছেন।

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক মনে করাচ্ছেন, কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রের সঙ্গে যুব সাথীর সত্যিই কোনও সম্পর্ক নেই। যুব সাথী ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের অধীনে রয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে উপ-অধিকর্তা অরুণাভ দত্ত বলেন, ‘‘২০১৩ সাল থেকে কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র থেকে যুবশ্রী ভাতা দেওয়া হয়। তাই অনেকেই যুব সাথীর সমস্যার জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে আসছেন। তাঁরা যুবশ্রীর সঙ্গে যুব সাথী ভাতা গুলিয়ে ফেলছেন। তবে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা।’’ ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্করও জানিয়েছেন, ট্রেজারি বা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। যুব সাথী নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস ও পুরসভায় গেলেই হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, যুব সাথীর জন্য ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রথম দফায় পাঁচ হাজার ৬০০ জনের টাকা ছাড়া হয়েছিল। এরা সবাই অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে এক হাজার ১৭৭ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। বাকিদের অ্যাকাউন্টে অবশ্য টাকা ঢুকে গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক মানছেন, ‘‘যাঁদের টাকা ঢোকেনি তাঁদের টেকনিক্যাল সমস্যা ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। যাঁদের অ্যাকাউন্ট নম্বর ঠিক রয়েছে তাঁরা বৃহস্পতিবার থেকে এই ভাতা পেতে শুরু করবেন।’’ ঝাড়গ্রাম জেলায় এই প্রকল্পের জন্য অফলাইনে আবেদন এসেছিল ৮১ হাজারের বেশি। সেই সব আবেদন এখন অনলাইনে ‘এন্ট্রি’ করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে টাকা ঢুকবে ধাপে ধাপে। জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, ‘‘জেলায় চার হাজার জনের যুব সাথীর টাকা ঢুকেছে। অনেকেই ফর্ম পূরণের সময় ভুল করেছেন। তাঁদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। নিকটবর্তী বিডিও অফিসে গিয়ে অ্যাকাউন্ট ঠিক করলে টাকা পৌঁছে যাবে।’’

চলতি মাসে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকাও এখনও ঢোকেনি বলে অভিযোগ। ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অরূপ দত্ত বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের বিষয়টি পুরোটাই রাজ্য থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jhargram

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy