×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০২ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

তৃণমূলের শহর কমিটিতে ঠাঁই হল না দিব্যেন্দুর

নিজস্ব সংবাদদাতা
তমলুক ১৭ নভেম্বর ২০২০ ০১:০০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

প্রায় দেড় দশক ধরে রয়েছেন তমলুক শহর তৃণমূলের সভাপতি পদে। গত বছর সেই পদ খুঁইয়ে হয়েছিলেন দলের অন্তর্বর্তীকালীন শহর কোর কমিটির সদস্য। এবার কমিটির সদস্য পদ থেকেই বাদ পড়লেন দিব্যেন্দু রায়। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

দীর্ঘদিন ধরে তমলুক শহর তৃণমূলের সভাপতি পদে ছিলেন দিব্যেন্দু। তাঁর স্ত্রী লীনা মাভৈ রায় ২০১৫ সাল থেকে তমলুকের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ছিলেন। বর্তমানে তিনি পুরসভার প্রশাসক বোর্ডে ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর পদে রয়েছেন। গত বছর দিব্যেন্দু শহর সভাপতি পদে থাকাকালীন সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এর পরে তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব দলের তমলুক শহর সভাপতির পদ থেকে দিব্যেন্দুকে সরিয়ে দেন এবং শহর কমিটি ভেঙে দেন। বদলে দলের জেলা নেতৃত্ব অন্তর্বর্তীকালীন হিসাবে বিশ্বনাথ মহাপাত্রকে তৃণমূলের তমলুক শহর সভাপতি পদে নিযুক্ত করে শহরে দলের ২৬ জনের একটি কোর কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন। ওই কোর কমিটির সদস্য হিসাবে রাখা হয় দিব্যেন্দুকে। সম্প্রতি তৃণমূল জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী তমলুক শহর তৃণমূলের সভাপতি হিসাবে বিশ্বনাথ মহাপাত্রের নাম ঘোষণা করেছেন। শহর তৃণমূলের যে কমিটি গড়া হয়েছে, তাতে ১৫ জন সহ-সভাপতি, তিন জন সাধারণ সম্পাদক, ছ’জন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, ১৩ জন সদস্য, ২০ জন ওয়ার্ড সভাপতি, ছ’জন স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য এবং সাত জন বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য রয়েছেন। কিন্তু কমিটিতে ঠাঁই হয়নি দিব্যেন্দু রায়ের।

Advertisement

এমন এক নেতাকে সরানো প্রসঙ্গে শহর তৃণমূলের একাংশের প্রশ্ন, এতদিন ধরে শহরে দলের সাংগঠনিক দ্বায়িত্বে থাকা দিব্যেন্দুর কমিটিতে ঠাঁই হল না কেন? এছাড়া, জেলা রাজনীতিতে দিব্যেন্দু মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফলে তাঁর ঠাঁই না হওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও দলেরই একাংশ আবার জানাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে তমলুকে শুভেন্দুর বহু কর্মসূচিতে গরহাজির থেকেছেন দিব্যেন্দু। ফরেলে কমিটিতে ঠাঁই না মেলায় অন্য সমীকরণ থাকতে পারে বলেও মত রাজনৈতিক মহল। তবে তমলুক শহর তৃণমূলের নয়া সভাপতি বিশ্বনাথ মহাপাত্র অবশ্য বলছেন, ‘‘দিব্যেন্দু জেলা স্তরের নেতা। উনি শহর কমিটিতে না থাকলেও দলের নেতৃত্ব হিসেবে আমাদের চালনা করবেন। এনিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।’’

আর দিব্যেন্দুর কথায়, ‘‘প্রায় ১৪ বছর দলের শহর সভাপতি পদে ছিলাম। তাই শহর কমিটিতে না থাকা নিয়ে কেউ অন্যভাবে ব্যাখা করতেই পারেন। আমি এখন দলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি হিসাবে দলের জেলা কমিটির সদস্য।’’

Advertisement