Advertisement
E-Paper

TMC: মঞ্চে পার্থ, জেলা সভাপতির নাম ভুললেন বিরবাহা!

করোনার কারণে পার্থর সভামঞ্চে জায়গা হয়নি জেলা তৃণমূলের অনেক নেতা-নেত্রীরই। দলের অনেকের অনুমান, এতেই ক্ষুব্ধ বিরবাহা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২১ ০৭:৪৩
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিজয়া সম্মিলনীর সভামঞ্চে বক্তৃতার সময় ঝাড়গ্রামে জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবনাথ হাঁসদার নামই ভুলে গেলেন জেলার চেয়ারপার্সন বিরবাহা সরেন টুডু। দেবনাথই পিছন থেকে স্মরণ করিয়ে দিলেন নিজের নাম! শুক্রবারের এই ঘটনায় জল্পনা শুরু হয়েছে শাসকদলের অন্দরে।

করোনার কারণে পার্থর সভামঞ্চে জায়গা হয়নি জেলা তৃণমূলের অনেক নেতা-নেত্রীরই। দলের অনেকের অনুমান, এতেই ক্ষুব্ধ বিরবাহা। আর তার জেরেই এই ‘বিস্মৃতি’।

শুক্রবার মঞ্চে দ্বিতীয় সারিতে আসন পেয়ে প্রথমে বসেও নেমে যান বিরবাহা। দলের জেলা কার্যকরী সভাপতি দুর্গেশ মল্লদেব, প্রসূন ষড়ঙ্গী, জেলার কো-অর্ডিনেটর অজিত মাহাতো, উজ্জ্বল দত্ত, জেলা যুব সভাপতি সুরজিৎ হাঁসদার মতো নেতাদের মঞ্চে ঠাঁই হয়নি। তাঁদের সঙ্গেই দর্শকাসনের প্রথম সারিতে গিয়ে বসেন বিরবাহা। পার্থর উপস্থিতিতে মাইক্রোফোনে দেবনাথ ও জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র সুব্রত সাহা বিরবাহাকে বার বার মঞ্চে ডাকলেও তিনি যাননি। পরে পার্থ ইশারায় ডাকলে মঞ্চে ওঠেন জেলা চেয়ারপার্সন। প্রথমে তাঁকেই বক্তৃতার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রারম্ভিক ভাষণে পার্থ সহ জেলার নেতা-জনপ্রতিনিধিদের নাম নেন বিরবাহা। শেষে ‘আমাদের জেলার অভিভাবক জেলা সভাপতি’ বলে থমকে যান তিনি। দেবনাথের নাম মনে করতে না পেরে পিছনে দেবনাথ আর প্রাক্তন মন্ত্রী চুড়ামণি মাহাতোর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘‘নাম কী যেন?’’ দেবনাথ বলার পরে তাঁর নাম নেন বিরবাহা।

প্রথমে ঠিক ছিল ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার লোক নিয়ে বিজয়া সম্মিলনী হবে। কিন্তু করোনা আবহে পার্থের আপত্তিতেই দু’শো জনকে নিয়ে অফিসার্স ক্লাব মাঠে ছোট সভা হয়। মঞ্চে পার্থ ছাড়াও ছিলেন প্রথম সারিতে জেলা সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস, জেলা সভাপতি তথা বিনপুরের বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক বন প্রতিমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা, নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু ও গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দুই বিধায়ক অজিত মাইতি ও দীনেন রায়। মঞ্চে দ্বিতীয় সারিতে প্রাক্তন দুই বিধায়ক চূড়ামণি মাহাতো ও খগেন্দ্রনাথ হেমব্রম ছাড়াও বিরবাহা সরেন টুডু প্রথমে বসেছিলেন। দ্বিতীয় সারিতেই প্রাক্তন সাংসদ উমা সরেনের আসন থাকলেও তিনি আসেননি।

চলতি বছরেই দুলাল মুর্মুকে সরিয়ে দেবনাথ হাঁসদাকে নতুন জেলা সভাপতি করা হয়। বিরবাহা জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সনের পদ পান। দেবনাথের সঙ্গে বিরবাহা ঘনিষ্ঠ জেলার একাধিক নেতা-জনপ্রতিনিধির সম্পর্ক বেশ ‘শীতল’। দেবনাথ একক সিদ্ধান্তে দল পরিচালনা করছেন বলে ওই মহলের অভিযোগ। পার্থের সভা শেষে মঞ্চে ঠাঁই না পাওয়ায় ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ উগরে দেন অনেকে। জেলা তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলছেন, ‘‘করোনা আবহে মহাসচিব দলের কম লোকজনকে নিয়ে সভা করতে বলেছিলেন। কিন্তু দলীয় কর্মসূচিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রীদের মঞ্চে বসার জায়গা দেওয়া উচিত ছিল। জে‌লা সভাপতি এ ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারতেন।’’

জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন বিরবাহা বলছেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নীচে রাখা হয়েছে দেখে তাঁদের সম্মান রক্ষার্থে প্রথমে তাঁদের সঙ্গেই বসেছিলাম। মহাসচিবের নির্দেশে মঞ্চে উঠি।’’ দেবনাথের নাম ভোলা নিয়ে অবশ্য তাঁর মুখে কুলুপ। তবে সূত্রের খবর, ঘনিষ্ঠমহলে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘‘যে সভাপতি জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নীচে বসান, তাঁর নাম মনে রেখে কী লাভ!’ দেবনাথ অবশ্য বলছেন, ‘‘কাজের চাপে হয়তো উনি আমার নাম ভুলে গিয়েছেন। এ সব ছোটখাটো বিষয়।’’ জেলা তৃণমূল সভাপতির ব্যাখ্যা, ‘‘করোনা আবহে মহাসচিবের নির্দেশে মঞ্চে কম আসন রাখা হয়েছিল। কাউকে অসম্মানের প্রশ্নই নেই।’’

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy