Advertisement
E-Paper

Death: কর্মীর দেহ পড়ে গ্রামে, নেতারা ব্যস্ত নবীন বরণে

বৃহস্পতিবার রাতে চন্দ্রকোনা রোডের সাঁইনারা গ্রামে জুয়ার আসরে মারামারিতে নিহত হন তৃণমূল কর্মী হরিপদ হাজারি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২২ ০৮:২৫
রবিবার সন্ধ্যায় সাঁইনারা গ্রামে গিয়ে নিহত কর্মীর মা কে সমবেদনা তৃণমূলের ব্লক নেতা রাজীব ঘোষের (বাঁ দিকে), শনিবার কলেজের নবীন বরণ উৎসবে মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো সহ ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব।

রবিবার সন্ধ্যায় সাঁইনারা গ্রামে গিয়ে নিহত কর্মীর মা কে সমবেদনা তৃণমূলের ব্লক নেতা রাজীব ঘোষের (বাঁ দিকে), শনিবার কলেজের নবীন বরণ উৎসবে মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো সহ ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব। নিজস্ব চিত্র।

গ্রামে পড়ে দলীয় কর্মীর মৃতদেহ। আর নেতারা ব্যস্ত কলেজের নবীন বরণ উৎসবে। এ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই অসন্তোষ ঘনিয়েছিল। দু’দিন পরে রবিবার বিকেলে সাঁইনারা গ্রামে গেলেন তৃণমূলের ব্লক নেতৃত্ব।

বৃহস্পতিবার রাতে চন্দ্রকোনা রোডের সাঁইনারা গ্রামে জুয়ার আসরে মারামারিতে নিহত হন তৃণমূল কর্মী হরিপদ হাজারি। ঘটনায় ২ জন তৃণমূল কর্মী-সহ ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পরে মৃতদেহ শুক্রবার রাতেই চলে আসে গ্রামে। কিন্তু দাহ না করে দেহ রেখে গ্রামবাসীকে নিয়ে গড়া ‘দেশ কমিটি’ দাবি তোলে, নিহতের পরিবার হতদরিদ্র। হরিপদ দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তাই তাঁর পরিবারের নামে ৩ অভিযুক্তকে ১ বিঘা করে মোট ৩ বিঘা কৃষিজমি লিখে দিতে হবে। দাবি না মিটলে মৃতদেহ দাহ করা হবে না বলেও জানানো হয়। শনিবার গ্রামের ফুটবল মাঠে জড়ো হন স্থানীয়রা। দিনভর মৃতদেহ ফেলে রেখেই ওই কমিটির সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। ৩ অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলা হয়। শেষে ১ বিঘা করে জমি লিখে দেওয়ার শর্তে ক্ষোভে দাঁড়ি পড়ে। শনিবার রাতেই ওই তৃণমূল কর্মীর শেষকৃত্য হয়।

তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, শনিবার যখন দলীয় কর্মীর মৃতদেহ ফেলে গ্রামে দাবিদাওয়া আদায়ের আলোচনা চলছিল, ব্লক নেতৃত্ব তখন ব্যস্ত ছিলেন চন্দ্রকোনা রোড কলেজের নবীন বরণে। বৃক্ষরোপণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-সহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দেন স্থানীয় বিধায়ক মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো-সহ ব্লকের প্রথম সারির নেতারা। বিকেলে ছিল বহিরাগত শিল্পীদের নাচ-গানের অনুষ্ঠানও। এক তৃণমূল নেতার ক্ষোভ, ‘‘দলের এক কর্মী মারা গিয়েছেন। তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। আর নেতারা কলেজের নবীন বরণ উৎসবে ব্যস্ত রইলেন। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কী আছে!’’ ব্লকের তৃণমূল নেতা রাজীব ঘোষ অবশ্য বলেন, ‘‘আমি শনিবার সর্বদা যোগাযোগ রেখেছিলাম। মাঝে একবার কলেজের অনুষ্ঠানে যাই। তবে আমাদের ওই নিহত কর্মীর বাড়িতে যাওয়া উচিত ছিল।’’

শেষমেশ রবিবার বিকেলে নিহত হরিপদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান রাজীব। রাতে নিহতের বাড়িতে যান মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতোও। তাঁর দাবি, ‘‘কলেজের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেই পুরুলিয়ায় এক কর্মসূচিতে চলে গিয়েছিলাম।’’ ব্লকের অন্য এক নেতা জ্ঞানাঞ্জন মণ্ডলের আবার বক্তব্য, ‘‘আমি অসুস্থ। যেহেতু গ্রামে উত্তেজনা ছিল, তাই যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আমরা যাইনি। তবে নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে দল সর্বদা থাকবে।’’

TMC Death
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy