Advertisement
E-Paper

মৃত্যুতে ‘সমব্যথী’, স্বস্তি দুঃস্থ পরিবারে

দীর্ঘ ছ’বছর নার্ভের অসুখে ভুগছিলেন কেশরী মুর্মু। বিপিএল তালিকায় নাম না থাকায় চিকিৎসার খরচ বিশেষ কম হয়নি। তবে অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি কেশরীদেবীকে।

সৌমেশ্বর মণ্ডল

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০১:০২

দীর্ঘ ছ’বছর নার্ভের অসুখে ভুগছিলেন কেশরী মুর্মু। বিপিএল তালিকায় নাম না থাকায় চিকিৎসার খরচ বিশেষ কম হয়নি। তবে অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি কেশরীদেবীকে। গতমাসে মারা গিয়েছেন তিনি। এ দিকে, চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারের প্রায় নিঃস্ব দশা। পরিজনদের কাছে তখন সব থেকে বড় প্রশ্ন ছিল, সৎকার থেকে শ্রাদ্ধ হবে কী করে!

গত ২৯ জানুয়ারি হঠাৎই মারা যান মেদিনীপুর শহরের মিত্র কম্পাউন্ডের বাসিন্দা পদ্মা চট্টোপাধ্যায়। তারপরের খরচটা সামলাতে কপালে ভাঁজ পড়েছিল পরিজনদের। সঙ্কটের সেই মুহূর্তে কেশরীদেবী ও পদ্মাদেবী, দু’জনের পরিজনেরই সহায় হয়েছে ‘সমব্যথী’। পুরসভা থেকে মিলেছে নগদ দু’হাজার টাকা। আর তাতেই সুষ্ঠু ভাবে মিটে গিয়েছে শেষকৃত্য।

গত বছর ২৪ শে নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। দরিদ্র পরিবারে কারও মৃত্যু হলে শোক ছাপিয়ে ধরা দেয় সঙ্কট। সৎকার থেকে আদ্যশ্রাদ্ধ, সব আয়োজন কোত্থেকে হবে, ভেবে কূল পান না মৃতের পরিজনেরা। ‘সমব্যথী’-তে হাতে হাতে দু’হাজার টাকা মেলায় সেই সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। এই প্রকল্পে উপকৃত পদ্মাদেবীর নাতি দীপক চট্টোপাধ্যয় বলছিলেন, ‘‘বিপদের সময় দুঃস্থ মানুষের সত্যিকারের বন্ধু এই প্রকল্প।’’

মেদিনীপুর পুরসভায় সমব্যথী চালু হয়েছে গত ৩০ শে জানুয়ারি। তারপর থেকে বহু মানুষ এই প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন। পুরসভায় আবেদনপত্র জমা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই দুঃস্থ পরিবারের হাতে দু’হাজার টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। জমা দিতে হচ্ছে শুধু মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্র ও শ্মশানের শংসাপত্র। আর স্থানীয় কাউন্সিলরের থেকে মৃতের পরিবারকে ‘দুঃস্থ’ বলে লিখিয়ে নিতে হবে। মেদিনীপুরের পুরপ্রধান প্রণব বসুর কথায়, ‘‘দুঃস্থ মানুষের কথা ভেবেই মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্প চালু করেছেন। আমরাও যত দ্রুত সম্ভব মৃতের পরিজনের হাতে অর্থসাহায্য তুলে দিচ্ছি।’’

Poor Family Sympathizer Underprivileged people
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy