গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে রাজ্যের জন স্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের উপর। এ বার গ্রামীণ ছোট জল সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনার ভার পাচ্ছে পঞ্চায়েতগুলি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তরফে শীঘ্রই জেলার ১১৫ টিগ্রামীণ জল সরবরাহ প্রকল্প পঞ্চায়েতের উপর হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতরের কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম দাস বলেন, ‘‘১১৫ টি গ্রামীণ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন থেকে পঞ্চায়েতগুলি ওই জল সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনা করবে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।’’
জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পাম্প হাউসের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ জল তুলে সরবরাহের প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলি তৈরি থেকে পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব রয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের হাতে। নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহের জন্য পাম্প হাউসগুলিতে একজন করে পাম্প অপারেটর, একজন ভাল্ভ অপারেটর ও একজন মিস্ত্রি অস্থায়ীভাবে চুক্তির ভিত্তিতে রয়েছেন। এইসব কর্মীদের বেতন দেয় রাজ্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এরকম ১১৯ টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জল সরবরাহ প্রকল্প পরিচালনার ভার কয়েক বছর আগেই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বাকি ১১৫ টি জল সরবরাহ প্রকল্প রাজ্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পরিচালনাধীন রয়েছে।
তবে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়েছে, ছোট জল সরবরাহ প্রকল্পগুলি সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েতের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু পানীয় জল প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে সব পঞ্চায়েতগুলি কি রাজি হয়েছে? পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা জন স্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের নির্বাহী বাস্তুকার সুদীপ সেন বলেন, ‘‘ জল প্রকল্প পরিচালনা নিয়ে পঞ্চায়েতগুলির একাংশের মধ্যে দ্বিধা বা ভীতি ছিল এটা ঠিক। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানোর পর পঞ্চায়েতগুলি আগ্রহী হয়েছে। কোলাঘাটের গোপালনগর এলাকায় একটি জল সরবরাহ প্রকল্প আগে স্থানীয় পঞ্চায়েতকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। প্রকল্প ভালভাবে পরিচালনা করছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।’’ কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মানব সামন্ত বলেন, ‘‘জলপ্রকল্প পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়ে প্রথমে দিকে আর্থিক সমস্যা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর আর্থিক সাহায্য করায় জলপ্রকল্প পরিচালনায় কোন অসুবিধা হয়নি।’’