E-Paper

‘কম ভুগেছি, ভোট দুবনি আবার!’

লক্ষ্মীবারের ভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এ বার লক্ষ্মীদের উৎসাহ ছিল একটু বেশিই। ভোটের হারে প্রতিফলিত হচ্ছে সেই উৎসাহ।

রূপশঙ্কর ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোট শেষ হতে তখন প্রায় এক ঘণ্টা বাকি। গড়বেতা হাই স্কুলের বুথে পুরুষ-মহিলা দু’টো লাইনই বেশ লম্বা। বুথের মুখে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান বললেন, “ইতনা লোক লাইন দিয়া। গরব সে ভোট দিয়া। চুনাও আয়োগ কো বাধাই দো।” ভোট দিয়ে তাঁর পাশ কাটিয়ে সদ্যোজাত শিশু কোলে বেরিয়ে এক মহিলা বললেন, “ভোটার তালিকা নিয়ে কম ভুগেছি। ভোট দুবনি আবার!”

লক্ষ্মীবারের ভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এ বার লক্ষ্মীদের উৎসাহ ছিল একটু বেশিই। ভোটের হারে প্রতিফলিত হচ্ছে সেই উৎসাহ। কিন্তু কেন এই প্রবণতা? ভোট শেষে অনেকেই বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সৌজন্যে একেই ঝুটঝামেলাহীন ভোট। তার উপরে এসআইআর আবহে অনেকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে অতিরিক্ত সচেতন ছিলেন। চন্দ্রকোনার যাদবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথের সামনে তৃণমূল শিবির থেকে দেওয়া ঝালমুড়ি খাওয়া থামিয়ে প্রৌঢ়া পূজা সিং বললেন, “আবাসে কেউ ঘর দিল না। কত বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। তবুও এসআইআরে কাগজপত্র জমা দিয়ে তালিকায় নাম তোলাতে হয়েছে। আমরা নাগরিক হয়েও, আবার প্রমাণ দিতে হচ্ছে নাগরিকত্বের। তাই ভোট দিতে এসেছি।” খড়্গপুরের বুলবুলচটির বাসিন্দা জুবিলি সরকার বলেন, “আসল কথা হল এ বার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় নির্ভয়ে মহিলারা ভোট দিয়েছেন। তা ছাড়া এসআইআরের পরে মানুষ নাগরিকত্ব নিয়ে সচেতন হয়েছে।”

ঝাড়গ্রামে এ দিন সকাল থেকেই ভোটের লাইনে মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লাইনে দাঁড়ানো অনেকে বলেছেন, তাঁরা ভয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ভোট দিতে এসেছেন। পাছে পরের তালিকা থেকে নাম বাদ যায়! নয়াগ্রামের চামারবাঁধের এক বাসিন্দা মালদহ থেকে ভোট দিতে এসেছেন। ভোট শেষে কাটাছেঁড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সব দল। মেদিনীপুর জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাসের কথায়, “মানুষের ভোট দেওয়ার প্রবণতা থেকে স্পষ্ট, এটা ছিল পরিবর্তনের ভোট।” কেশপুরের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা বলেন, “আমাদের সরকার মানুষের পাশে থেকেছে। মানুষও আমাদের পাশে থেকেছে।” খড়্গপুর সদরের পদ্ম-প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে চুপচাপ মানুষ ভোট দিয়েছে। আমার মনে হয় এটা গণতন্ত্রের পক্ষে ভাল।” একই ভাবে দিলীপের প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলছেন, “এই বিপুল ভোট গণতন্ত্রের প্রতি এই রাজ্যের মানুষের যে প্রবল আস্থা রয়েছে তার প্রমাণ।”

ভোটে অর্ধেক আকাশের উদার ভাবনা ছিল। নানা আয়োজনও করা হয়েছিল। কিন্তু, মহিলা পরিচালিত বুথে অব্যবস্থারও অভিযোগ উঠেছে বিক্ষিপ্ত ভাবে। ডেবরার হরিমতী সারস্বত বিদ্যামন্দিরে অব্যবস্থার ছবি সামনে আসে। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে পেয়েই পানীয় জল নিয়ে নালিশ জানান একদল ভোটার। রাজীব তাঁর কর্মীদের দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেন। মহিলা পরিচালিত ওই বুথে ভোট কর্মীদের জন্যও পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল না। মহিলা ভোট কর্মীদের শৌচাগার নিয়েও ক্ষোভ ছিল। ছিল ভোট গ্রহণে দেরি হওয়ার অভিযোগও। তৃণমূল প্রার্থী ফোন করে বাড়তি কর্মী নিয়োগ করার পরে ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে।

বহু ক্ষেত্রে অন্য বুথে প্রায় একই ধরনের ছবি দেখা গিয়েছে। ঘাটাল-দাসপুরের একাধিক বুথেই রোদ থেকে বাঁচতে কোনও ছাউনি ছিল না। ছিল না বয়স্কদের বসার জায়গাও। ঘাটালের রানিরবাজার বুথে বৃহস্পতিবার দুপুরে চড়া রোদেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক বয়স্ক মহিলা। তাঁর কথায়, “এতদিন ধরে খবরে শুনলাম, ছাউনির ব্যবস্থা থাকবে। কোথায় ছাউনি?” শালবনির একাধিক বুথে ছাউনি না থাকায় বাহিনীকে দুপুরে গাছের ছায়ায় দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে। (তথ্য সহায়তা: অভিজিৎ চক্রবর্তী, বরুণ দে, দেবমাল্য বাগচী, বিশ্বসিন্ধু দে, রঞ্জন পাল)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Voters

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy