Advertisement
E-Paper

অনলাইনে বৃত্তির আবেদনে পিছিয়ে পূর্ব

স্কুল-কলেজে পাঠরত মেধাবী সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারি বৃত্তি পাওয়ার জন্য আবেদনের কাজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঢিমেতালে চলার অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে ওই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারে। এ জন্য অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করার জন্য চলতি বছরে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল।

আনন্দ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ২১ অগস্ট ২০১৫ ০১:০৪

স্কুল-কলেজে পাঠরত মেধাবী সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারি বৃত্তি পাওয়ার জন্য আবেদনের কাজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঢিমেতালে চলার অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে ওই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারে। এ জন্য অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করার জন্য চলতি বছরে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে আবেদনের হার কম বলে খোদ রাজ্য সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে।

প্রথমে ওই আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত থাকলেও তা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করা হয়েছিল। ফের ওই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওই বৃত্তির জন্য সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইন পদ্ধতিতে দ্রুত আবেদন করার জন্য সাহায্য করতে প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েত ও পুরসভায় বিশেষ শিবির করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি মেধা বৃত্তির জন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে আবেদনের হারও পিছিয়ে রয়েছে বলে রাজ্য সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর জানিয়েছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারি প্রতুল কুমার ভুঁইয়ার অবশ্য বক্তব্য, ‘‘মেধা বৃত্তির জন্য প্রথম দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার হার কিছুটা কম হলেও এখন কাজ ঠিকমত এগোচ্ছে। এ বিষয়ে জেলার হাইস্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে জেলাস্তরে সচেতনা শিবির করা হয়েছে।’’

সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারি মেধা বৃত্তি দেওয়া হয়ে থাকে। নবম ও দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা বার্ষিক ১২৪০ টাকা ও একাদশ শ্রেণির ঊর্ধ্বে ছাত্র-ছাত্রীরা বার্ষিক ২৫৫০ টাকা হারে বৃত্তি পেয়ে থাকে। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রি-মেট্রিক ও একাদশ থেকে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পোস্ট-মেট্রিক ওই মেধা বৃত্তি পেতে হলে স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এ জন্য প্রতিবছর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়। গত বছর পর্যন্ত প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। একাদশ থেকে কলেজ পড়ুয়া পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে আবেদন করতে হত।

চলতি বছরে নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপের জন্য অনলাইনে আবেদন করা বাধ্যতামূলক হয়েছে। কিন্তু মেধা বৃত্তির জন্য এই অনলাইনে আবেদনের হার বেশ শ্লথ বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের হিসেবে অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ আর্থিক বছর রাজ্যে মোট ২ লক্ষ ৩১ হাজার নবম ও দশম শ্রেণির সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রী প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপ পায়। একইভাবে রাজ্যের ১ লক্ষ ৯১ হাজার সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রী পোস্ট-মেট্রিক স্কলারশিপ পেয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সারা রাজ্যে মাত্র ২০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ওই মেধা বৃত্তির জন্য অনলাইন আবেদন পাওয়া গিয়েছে। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এখনও পর্যন্ত মোট প্রায় ৫ হাজার সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রী অনলইনে আবেদন করেছে। যা ওই মেধা বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যার তুলনায় অনেকটাই কম।

কী কারণে অনলাইনে আবদনের কাজ ব্যাহত হয়েছে?

পাঁশকুড়া ব্রাডলিবার্ট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বনমালী সামন্ত বলেন, ‘‘প্রথম দিকে যান্ত্রিক কারণে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।’’ মহিষাদলের আটকিনা হাইমাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ইয়ারুল ইসলামের কথায়, ‘‘আমাদের বিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকায় অনলাইনে আবেদন করার মত ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের দূরে যেতে হচ্ছে। তাছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের এ বারই প্রথম অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে কিছুটা দেরি হচ্ছে।’’ অনেক পড়ুয়ার কথায়, যান্ত্রিক কারণে ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন করতে বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গিয়েছে। আবার অনেক পড়ুয়ার বাড়ি বা স্কুল থেকে অনলাইনে আবেদন করার মতো ব্যবস্থা নেই। সময়ের অভাবে অনেক সময়ই আর করা হয়ে ওঠেনি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মামুদ হোসেনও এই সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘কয়েকটি সমস্যার কারণে অনলাইনে আবেদনের কাজ পিছিয়ে রয়েছে। এবিষয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে দ্রুত অনলাইনে আবেদনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy