শুধু লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য যে মহিলারা তৃণমূলকে ভোট দিতে যাবেন, তাঁদের ঘরবন্দি করে রাখার নিদান দিলেন বিজেপি নেতা। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই নেতার মন্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বলে জানিয়ে দিল তাঁর দল।
শনিবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের দাসপুরের কলাইকুন্ডু মাঠে বিজেপির সংকল্প জনসভা ছিল। সেখানে বক্তা ছিলেন পদ্মশিবিরের রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত। বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে নেতা এবং কর্মীদের নানা পরামর্শ দিচ্ছিলেন কালী। একটি জায়গায় রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়ার পর যখন স্ত্রীরা তৃণমূলকে ভোট দিতে যাবেন, সেই সময় স্বামীরা যেন তাঁদের ঘরে বন্দি করে রাখেন।’’
ওই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ, পরোক্ষে মহিলা ভোটারদের অপমান করেছেন বিজেপি নেতা। নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। ওই শোরগোলের মধ্যে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস জানান, কালীপদের এই বক্তব্য দল সমর্থন করে না। তিনি বলেন, ‘‘ওঁর এই মন্তব্য একেবারেই দলের বক্তব্য নয়। আমরা সবসময় চাই, মহিলারা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসুন। মহিলাদের গৃহবন্দি করে রাখা বিজেপির মানসিকতা নয়। তবে তিনি কী ভাবে এই কথা বলেছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, সব নাগরিক ভোট দিন। যে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী নাগরিক নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন। তাঁরা চান ভোট শতাংশ বাড়ুক।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, নিজের অবস্থানে অনড় কালীপদ। তাঁর দাবি, তিনি যা বলেছেন, তার অপব্যাখ্যা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার বক্তব্যে অনড়। আমার বক্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে। আমি বলেছি, ‘স্বামীরা বন্দী করে রাখুন।’ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েও অনেক মহিলা বিজেপিকে ভোট দেন। কিন্তু যাঁরা তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছেন, তাঁরা সন্তানদের ভবিষ্যতকেই নষ্ট করছেন।’’
তবে শনিবার কালীপদ বলেছিলেন, ‘‘তৃণমূল মানে চোর, সারা রাজ্যের মানুষ তা জেনে গিয়েছে। তৃণমূলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করুন। দাসপুর বিধানসভায় আমরাই জয়লাভ করব। রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা আসনে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়া মহিলারা ভারতীয় জনতা পার্টিকেও ভোট দেবেন। তবে, লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়া অনেক মা আছেন, যাঁরা তৃণমূলে ভোট দেবেন, সেই সব পরিবারের স্বামীদের বলছি, ওই মায়েদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেবেন। ভোট দিতে হবে পদ্মফুলে, জোড়াফুলে নয়।”
তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক অজিত মাইতির কটাক্ষ, ‘‘এটাই হল বিজেপি। এরা মহিলাদের সম্মান করে না। সমমর্যাদারও বিরোধী। এদের কাজ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে মানুষকে হেনস্থা করা। সেই সঙ্গে কেন্দ্র থেকে প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা।’’