মা মারা গিয়েছেন বুধবার রাতে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ রয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেই শোক বুকে চেপে উচ্চ মাধ্যমিকের সংস্কৃত পরীক্ষা দিল মেয়ে।
মেদিনীপুর শহরের মিশন গার্লস স্কুলে পড়েছিল তার পরীক্ষা কেন্দ্র। শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিভাগের ছাত্রী সে। পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের মিঞাবাজার এলাকায় বাড়ি ওই ছাত্রীর। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ছাত্রীর মা। স্থানীয় চিকিৎসককে দেখানোর পরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান পরিজনেরা। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় মহিলার। একাধিক শারীরিক সমস্যা ছিল তাঁর। মৃত্যুর কারণ জানতে বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
মৃতার ছোট মেয়ে এবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। বড় মেয়ে কলেজে পড়েন। মায়ের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রী। তবু পরীক্ষা দেয় সে। পরীক্ষার পরে হাসপাতালে আসে ওই ছাত্রী। বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বাতী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্কুলের এক উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্রীর মা অসুস্থতার কারণে মারা যান। ওই ছাত্রী যাতে পরীক্ষা দিতে পারে, সে জন্য তাকে বোঝানো হয়। পরীক্ষা দিয়েছে ওই ছাত্রী। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটির কোঅর্ডিনেটর রামজীবন মান্ডি বলেন, মায়ের মৃত্যু শোকে মিশন গার্লস স্কুলে পরীক্ষা দিয়েছে ওই ছাত্রী।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ঘাটালে উল্টে গেল টোটো। আহত হল চার ছাত্রী। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি দু’জন ছাত্রী পরীক্ষা দেয় ঘাটাল হাসপাতালে। রত্নেশ্বর বাটি হাইস্কুলের ছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল বসন্তকুমারী হাইস্কুলে।