শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও শুরুই হয়নি প্রশিক্ষণ। আদৌ কবে প্রশিক্ষণ শুরু হবে তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই প্রকল্পে ২৫৫ কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা। ঠিক হয়েছে, এর মধ্যে পারিবারিক বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নীচে এমন ৮৫ জনকে নিখরচায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাকিদের ক্ষেত্রে ব্যয়ের ৫০ শতাংশ অর্থ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কিন্তু এই প্রকল্পে যে ৩৮৫ জন আবেদন জানিয়েছেন তাঁদের সকলেরই বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নীচে। তাহলে বাকি ১৩০ জনকে বাদ দেওয়ার মাপকাঠি কী হবে? এই নিয়েই সমস্যায় পড়েছে প্রশাসন। এ বিষয়ে কী করণীয় তা জানতে চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্য যুব দফতরে। আর সেই চিঠি না আসা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ শুরু করা যাবে না।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের জেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের কথায়, “দ্রুত প্রশিক্ষণ শুরু হলে ভাল হয়। কারণ, যত তাড়াতাড়ি কাজ শিখতে পারব তত তাড়াতাড়ি কাজেরও সুযোগ মিলবে।” এ ব্যাপারে জেলা যুব কল্যাণ আধিকারিক সত্যব্রত হালদার বলেন, “আবেদনকারীরা সকলেই একই মাপকাঠির মধ্যে পড়ে। ফলে আমরা কাকে বাদ দেব। তাই আবেদন জানিয়েছি যাতে, জঙ্গলমহলের জেলা হিসাবে সকলকেই নিখরচায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। রাজ্যের কাছ থেকে কী নির্দেশ আসে তা দেখার পরই পদক্ষেপ করা হবে।”
চলতি আর্থিক বছরের শুরুতে রাজ্যের যুব কল্যাণ দফতর প্রশিক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ করতে জেলাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল। যে সংস্থাকে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরই ওই সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা। এই মর্মেই চুক্তি হয়েছে সরকারের সঙ্গে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মোবাইল ও ইউপিএস সারানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু চারটি মহকুমায় নির্দেশ আসে ওই দু’টি বিষয়ের পরিবর্তে ওয়েল্ডিং, পাথরের কাজ ও পাইপ লাইনের কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যদিও দ্বিতীয় নির্দেশ আসার আগেই আবেদনকারীরা আবেদনপত্র জমা দিয়ে দিয়েছিলেন।
তাহলে পরবর্তীকালে আবেদনকারীরা যদি ওই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক না হন তখন কী হবে? এরপর ফের আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলা প্রশাসন। আবেদনকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, নিখরচায় প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ মিললে আপত্তি নেই। এই বিষয় নিয়ে সমস্যা মিললেও কাদের বাদ দেওয়া হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না। কারণ, ৬ মাসের এই প্রশিক্ষণ খরচ কম নয়। এই প্রকল্পে মাথা পিছু ১৬ হাজার ৩২৫ টাকা খরচ। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ দিতে হলেও মাথাপিছু খরচ পড়বে প্রায় ৮ হাজার টাকা। যাঁদের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কম তাঁদের পক্ষে এই ভার বহন করা খুবই কঠিন। তা বুঝেই জঙ্গলমহলের জেলা হিসাবে সকলের নিখরচায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার জন্য রাজ্যের কাছে আবেদন জানিয়েছে জেলা। তবে এ বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা জেলার কাছে আসেনি।
সময় যত এগোচ্ছে, ততই দুশ্চিন্তা বাড়ছে আবেদনকারীদের। প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, আদৌ প্রশিক্ষণ হবে তো। কারণ, এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের পর কাজ পাওয়ারও যে নিশ্চয়তা রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সকলকেই নিখরচায় প্রশিক্ষণের ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে হবে। না হলে সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে সেই মতোই পদক্ষেপ করবে জেলা প্রশাসন।