মাত্র এক মাসের ব্যবধান। তার মধ্যেই ভোলবদল জেলা পুলিশের কর্তাদের!
গত ৮ অগস্ট পশ্চিম মেদিনীপুরের থানায়-থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল জেলা বিজেপি। সে দিন জেলার বেশ কিছু থানা বিজেপির ডেপুটেশন নিতে চায়নি। ওই তালিকায় ছিল জেলার সদর শহর মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানাও। থানার তরফে বিজেপি নেতাদের স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, ডেপুটেশন নেওয়া যাবে না। অগত্যা ডেপুটেশনের প্রতিলিপি থানার দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেন বিজেপি নেতারা। শুক্রবার বিজেপির রাজ্য জুড়ে থানা ঘেরাও কর্মসূচির দিন অবশ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আর সঙ্ঘাতের পথে যাননি পুলিশ কর্তারা। সব থানাতেই ডেপুটেশন নেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও থানায় আবার বিজেপি নেতাদের চা-বিস্কুট-মিষ্টি খাওয়ানো হয়েছে। এ বার যে ডেপুটেশন নেওয়া হবে, তা বিজেপি নেতাদের থানা থেকে আগে জানানোও হয়! মেদিনীপুর থানায় আইসি সুশান্ত রাজবংশী ছাড়াও ছিলেন ডেপুটি পুলিশ সুপার মনোরঞ্জন ঘোষ।
হঠাৎ পুলিশের এই ভূমিকা বদল কেন? জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের জবাব, “এটা তো ওদের (বিজেপি) রাজ্য কর্মসূচি। আগে থেকে জানানো হয়েছিল। সেই মতো থানা ডেপুটেশন নিয়েছে।” ভারতীদেবীর যুক্তি, “আসলে দুম করে লোকজন নিয়ে ডেপুটেশন দিতে এলে সমস্যা হয়। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলার।”
এ দিন বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে জেলার কোথাও অশান্তি হয়নি। বিজেপি-র কর্মী, সমর্থকেরা মিছিল করে থানায় গিয়েছেন। থানার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে। জমায়েত থেকে সারদা-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগও দাবি করা হয়। পরে দলের প্রতিনিধি দল থানায় গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয়। খড়্গপুর শহরের কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়। মেদিনীপুর শহরে নেতৃত্বে ছিলেন মহিলা তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী শম্পা পাল, দলের শহর সভাপতি অরূপ দাস প্রমুখ। বিজেপির জেলা সভাপতি তুষারবাবু বলেন, “পুলিশ গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করতে পারে না। দুর্ভাগ্য, আমাদের জেলায় তাই হয়। গত মাসে মেদিনীপুর শহরে দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহের সভা হওয়ার কথা ছিল। পুলিশ অনুমতি দেয়নি।”
লোকসভা ভোটের পরে পশ্চিম মেদিনীপুরেও বিজেপির সক্রিয়তা বাড়তে শুরু করেছে। গেরুয়া-শিবিরের সক্রিয়তা দেখে উদ্বিগ্ন তৃণমূলের একাংশও। গত ২৭ অগস্ট মেদিনীপুরে সভা করার কথা ছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহের। পুলিশের অনুমতি না মেলায় সেই সভা হয়নি। বদলে শহরে মিছিল করে বিজেপি। পাল্টা হিসেবে পরদিনই শহরে মিছিল করে তৃণমূল। তাতে নেতৃত্ব দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ মুকুল রায়।