Advertisement
E-Paper

দলে আসতে আগ্রহী বহু, সতর্ক বিজেপি

এতদিন যাঁরা নাম শুনেই ভুরু কুঁচকোতেন, এখন তাঁরাই আপন হতে ব্যস্ত। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বিজেপির ভাল ফলের পর এই চিত্রই সামনে আসছে। পশ্চিম মেদিনীপুরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তৎপর হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন জেলার বিজেপি নেতৃত্ব।

সুমন ঘোষ

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০১৪ ০০:৪৬

এতদিন যাঁরা নাম শুনেই ভুরু কুঁচকোতেন, এখন তাঁরাই আপন হতে ব্যস্ত।

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বিজেপির ভাল ফলের পর এই চিত্রই সামনে আসছে। পশ্চিম মেদিনীপুরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তৎপর হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন জেলার বিজেপি নেতৃত্ব। উৎসাহের চোটে দলে বেনো জল না ঢুকে যায়, সে দিকেই তাঁদের নজর। রবিবার বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এক বৈঠকে এই সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

বিজেপি সূত্রের খবর, কেউ সদস্য হওয়ার আবেদন জানালেই সদস্যপদ দেওয়া হবে না। আবেদনকারী সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। মূলত, তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। ১) এলাকায় তিনি কতটা জনপ্রিয়, ২) তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারামারি, মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে কিনা, ৩) নিজের এলাকায় সংগঠন বাড়াতে তিনি উপযুক্ত কিনা। তবে কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তির সঙ্গে যদি কিছু সাধারণ মানুষ দলে যোগ দেন, সে ক্ষেত্রে অত বাছবিচারের প্রশ্ন নেই। তবে সক্রিয় সদস্যের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা মেনেই সদস্য পদ দেওয়া হবে। বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “সাধারণ সদস্যের ক্ষেত্রে বিশেষ কড়াকড়ি নেই। তবে সক্রিয় সদস্যের ক্ষেত্রে সব দিক খতিয়েই দলে নেওয়া হবে। কারণ, দলের সক্রিয় সদস্যের ভাবমূর্তির ভাল হলে দল বাড়ে।” দেশ জুড়ে বিজেপির ভাল ফলে উৎসাহী হয়ে অনেকেই দলে আসতে চেয়ে আবেদন করছেন বলেও জানান তুষারবাবু।

দলের সংগঠন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া যাতে যথাযথ হয়, সে জন্য ২৫ জনকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করেছে বিজেপি। কমিটির মূলত দু’টি বিষয় দেখবে। প্রথমত, বিজেপিতে আসতে আগ্রহী কোনও ব্যক্তি বা অন্য দলের নেতার ভাবমূর্তি খতিয়ে দেখা হবে। দ্বিতীয়ত, কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক করবেন। এলাকায় দলের কথা প্রচার করবেন। যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজেপি সম্পর্কে আস্থা জাগে। দলের এক নেতার কথায়, “আমরা সমর্থক বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছি। যাতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে বিজেপি ভাল ফল করে। নিশ্চয় তারই সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নেতার সংখ্যাও বাড়বে। কিন্তু কার হাতে নেতৃত্ব থাকবে সেটা ভাল করেই যাচাইয়ের পরেই তাঁর হাতে সেই ভার দেওয়া হবে।”

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সে অর্থে বিজেপির তেমন কোনও সংগঠনই নেই। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা মাত্র সাড়ে ৩ হাজার। সাধারণ সদস্যও মেরেকেটে হাজার চল্লিশেক। যে জেলায় ভোটারের সংখ্যা ৫০ লক্ষের কাছাকাছি, সেখানে সংগঠনের এই বহর উল্লেখযোগ্য নয়। তা সত্ত্বেও অন্যদের দলে নিতে এত ছুঁৎমার্গ কেন? বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই বাছবিচারে জোর দিচ্ছেন জেলা নেতৃত্ব। বামফ্রন্ট একেবারে তলানিতে ঠেকে গিয়েছে। কংগ্রেসের অবস্থাও দুর্বল। এই অবস্থায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাম ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের একটা অংশ বিজেপিতে ঝুঁকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলেও একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দুর্বল গোষ্ঠীর কেউ কেউ বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারেন বলেও অনুমান। এই পরিস্থিতিতে হুড়মুড়িয়ে দলে ভিড় বাড়াতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব। দলে নেওয়ার আগে একটু পরখ করে নিতে চাইছেন।

suman ghosh medinipur bjp
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy