Advertisement
E-Paper

ধুঁকছে পূর্বের শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়

পর্যাপ্ত নির্দেশক আর কর্মীর অভাবে সমস্যায় পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়গুলি। জেলার অনুমোদিত ৩৫টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পর্যাপ্ত নিদের্শক আর কর্মীর অভাবে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে ৫টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়। আর দীর্ঘদিন ধরে কোনও নির্দেশক ও কর্মী নিয়োগ না হওয়ার ফলে জেলায় চালু ৩০টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়ও চলছে খুঁড়িয়ে।

সুব্রত গুহ

শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৪৫
নাচিন্দা শিশু শ্রম বিদ্যালয়ে চলছে ক্লাস। ছবি: সোহম গুহ।

নাচিন্দা শিশু শ্রম বিদ্যালয়ে চলছে ক্লাস। ছবি: সোহম গুহ।

পর্যাপ্ত নির্দেশক আর কর্মীর অভাবে সমস্যায় পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়গুলি। জেলার অনুমোদিত ৩৫টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পর্যাপ্ত নিদের্শক আর কর্মীর অভাবে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে ৫টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়। আর দীর্ঘদিন ধরে কোনও নির্দেশক ও কর্মী নিয়োগ না হওয়ার ফলে জেলায় চালু ৩০টি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়ও চলছে খুঁড়িয়ে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শিশু শ্রম প্রকল্প দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব ছেলেমেয়েরা পরিবারের আর্থিক অসঙ্গতির কারণে শিশু শ্রমিক হিসেবে পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাদের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করা ও শিক্ষাদানের জন্যই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়গুলি চালু করা হয়। শিশুশ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত নয় থেকে চোদ্দ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান ও সেই সঙ্গে মিড ডে মিলেরও ব্যবস্থা করা হয়। এই মুহূর্তে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় চালু থাকা ৩০ শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়য়ে বতর্মানে ৬৭০ জন ছেলে ও ৬৩২ জন মেয়ে পড়াশোনা করে।
প্রতিটি শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়য়ে ৩ জন করে নির্দেশক ও ১ জন করে পিওন বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মী থাকার কথা। সেক্ষেত্রে জেলার ৩০টি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়য়ে মোট ৯০জন নির্দেশক থাকার কথা। কিন্তু সেখানে নির্দেশক রয়েছেন ৭৪জন। অর্থাৎ ১৬টি নির্দেশক পদ শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অন্য দিকে প্রতিটি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়য়ে একজন করে পিওন বা চতুর্থ শ্রেণির মোট ৩০জন কর্মচারী থাকার কথা। সেখানে বতর্মানে ২৭ জন রয়েছেন। নির্দেশক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মী মিলিয়ে মোট ১৯টি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে।
জেলার চালু থাকা ৩০টি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি হল কাঁথি-৩ ব্লকের নাচিন্দা শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়। বতর্মানে ৩০জন শিশু শ্রমিক এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। স্থানীয় বিড়ি ও ইটভাটার শ্রমিক পরিবারের এইসব ছেলেমেয়েরাও ছোট থেকেই এই কাজে নেমে যায়। শিশুশ্রম থেকে ওই শিশুদের উদ্ধার করতেই ১৯৯৬ সালের ১৫ অগস্ট নাচিন্দাতে এই স্কুলটি চালু হয়। মঙ্গলবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, জনা পনেরো পড়ুয়া নিয়ে ক্লাস করছেন স্কুলের দুই নির্দেশক মানিকোজ্জ্বল দাস ও অর্পনা বেরা মাইতি। মানিকোজ্জ্বলবাবু জানান, “স্কুলে ৩ নির্দেশক ছাড়াও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী রয়েছেন। কিন্তু এই স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য পাঠদান ও মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের মাথাপিছু ১৫০ টাকা করে মাসিক বৃত্তি দেওয়ার কথা। কিন্তু গত এপ্রিল থেকে কোনও ছাত্রছাত্রী সেই টাকা পায়নি।’’ শুধু ছাত্রছাত্রীদের এই ভাতা নয়, স্কুলের তিন নির্দেশক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীও গত এপ্রিল থেকে বেতন বা পারিশ্রমিক পাননি বলেও অভিযোগ জানান তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শিশু শ্রম প্রকল্প আধিকারিক সুমিতবরণ দাসের বক্তব্য, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে কোনও কর্মী নিয়োগ না হওয়ার ফলেই জেলার শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়গুলির এমন হাল।’’ কর্মীর অভাবে যে স্কুলগুলিতে বেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা কার্যত স্বীকার করেছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মামুদ হোসেনও। শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের কথায়, ‘‘জেলার শিশু শ্রমিক বিদ্যালয়গুলির শূন্য পদে অবিলম্বে নিয়োগ প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে শূন্য পদগুলিতে নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

আর শিশুদের ভাতা ও কর্মীদের বেতন মিলছে না কেন? এ বিষয়ে শিশু শ্রম প্রকল্প আধিকারিক সুমিতবরণ দাস বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম দফতর থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর এককালীন টাকা পাঠানো হয়। চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ছয় মাসের টাকা ইতিমধ্যেই জেলায় এসে গেছে। শিশু শ্রম বিদ্যালয় গুলির কর্মীদের পারিশ্রমিক ও পড়ুয়াদের ভাতা পুজোর পর দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy