হস্টেলের কাছের পুকুরে ভেসে উঠল বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এক পড়ুয়ার মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার সকালে হলদিয়ার এই ঘটনায় মৃতের নাম সৌগন্ধ রাজ(১৯)। হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এইচআইটি) প্রথম বর্ষের এই ছাত্র বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দিন তিনেক ধরে এইচআইটি-তে ফেস্ট চলছে। প্রতি বছরই ফেস্টের সময় ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং হস্টেল। কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে হাতিবেড়িয়া এলাকায় হস্টেলগুলি রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে কলেজের সামনে চায়ের দোকানে শুরু হওয়া বচসা ছাত্র সংঘর্ষের রূপ নেয়। দিনভর কলেজ ক্যাম্পাসেই প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের সঙ্গে দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেলের দিকে গোলমাল থামলেও, রাতে হস্টেলে গোলমাল শুরু হয়।
হাতিবেড়িয়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে নির্দিষ্ট সময়ে প্রথম বর্ষের হস্টেলের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পড়ুয়ারা তালা ভেঙে হস্টেল থেকে বেরিয়ে দ্বিতীয় বর্ষের হস্টেলে চড়াও হয়। গভীর রাতে প্রবল গোলমালের শব্দে গ্রামবাসীরাও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। পড়ুয়াদের একাংশের সঙ্গে তাঁদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। খবর পেয়ে হলদিয়া থানার আইসি দেবাশিস ঘোষ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের তাড়া খেয়ে পড়ুয়ারা পালাতে শুরু করেন। ফাঁকা মাঠের মধ্যে দিয়ে পালাতে গিয়ে অন্ধকারে দেখতে না পেয়ে বেশ কয়েকজন পুকুরে পড়ে যান। তার পর থেকে সৌগন্ধ রাজ নামে প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
এইচআইটি-র রেজিস্ট্রার অঞ্জন মিশ্র বলেন, ‘‘গোলমালের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সাত পড়ুয়াকে পুলিশ আটক করেছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ বুধবার বিকেলে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনে। তখনই সৌগন্ধ রাজের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে হলদিয়া থানাকে জানানো হয় এবং নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।’’ এরপরই বৃহস্পতিবার সকালে হাতিবেড়িয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরে দেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। দেহটি তোলার পর তাঁকে সৌগন্ধ রাজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পুকুরের পাশেই বাড়ি শঙ্করী সাঁতরার। শঙ্করীদেবীর দাবি, ‘‘রাতে পুকুরে কিছু পড়ার শব্দ শুনেছিলাম। কিন্তু তারপর আর খেয়াল ছিল না। পরে জানলাম এত কাণ্ড।’’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের তাড়া খেয়ে অনেক ছাত্রই পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিল। হয়তো সৌগন্ধ সাঁতার জানতেন না। তাই অন্যরা জল থেকে উঠে এলেও তিনি আর উঠতে পারেননি।
এ দিন প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সৌগন্ধের দেহ। কিন্তু সেখানে উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকায় দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফের পাঠানো হয় তমলুক জেলা হাসপাতালে। তবে জানা গিয়েছে, বিডিও রাজর্ষি নাথ যে রিপোর্ট হাসপাতালে দিয়েছেন ,তাতে ওই ছাত্রের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করেছেন। হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক পার্থপ্রতিম দাস বলেন, ‘‘ঘটনাটা দুর্ভাগ্যজনক। ছাত্রটির মা ও মামা এসেছেন। ময়নাতদন্তের পর দেহটি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’’ সৌদন্ধের দেহ উদ্ধার পর থেকেই গোটা কলেজ চত্বর থমথমে। এ দিনই ছিল কলেজ ফেস্টের শেয দিন। সৌগন্ধের স্মরণে ফেস্টও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।