Advertisement
E-Paper

পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া, সমস্যায় শিশুশিক্ষা কর্মীরা

শেষবার বেতন মিলেছে গত বছর জুলাইয়ে। তারপর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া মেদিনীপুর শহরের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সহায়িকাদের। প্রতি মাসের ১ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:০৯

শেষবার বেতন মিলেছে গত বছর জুলাইয়ে। তারপর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া মেদিনীপুর শহরের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সহায়িকাদের।

প্রতি মাসের ১ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুব্ধ সহায়িকাদের বক্তব্য, তাহলে কি ধরে নিতে হবে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশও কার্যকর হচ্ছে না! শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকা সংগঠনের নেত্রী শবনম বানু বলেন, “গত জুলাই মাসের বেতন পেয়েছি। অগস্ট থেকে আর বেতন পাইনি। এমনিতেই বেতন- কাঠামো ভাল নয়। তাও যদি সময় মতো বেতন না মেলে তাহলে তো সমস্যা। সহায়িকাদের অনেকেই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।” বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সহায়িকাদের পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া থাকায় রাজ্য সরকারকেই নিশানা করছে তারা। সিপিএমের মেদিনীপুর শহর জোনাল সম্পাদক সারদা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার উদাসীন। বেতন চেয়ে আন্দোলনে নামলে কিল-চড়-লাথিও খেতে হচ্ছে। পুলিশের লাঠিও জুটছে। সোমবারই তো কলকাতায় অতিথি শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশ লাঠি চালিয়েছে।’’

সারদাবাবুর কথায়, ‘‘মেলা আর উত্‌সব করেই তো কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করা হচ্ছে। একদিকে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকারা বেতন পাচ্ছেন না, একশো দিনের কাজের মজুরি বাকি, অন্য দিকে, মা-মাটি-মানুষের সরকার দান-খয়রাতি করেই চলেছে।’’ মেদিনীপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি তথা কাউন্সিলর সৌমেন খানও বলেন, “শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকারা খুব কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। রাজ্য সরকার তাঁদের কষ্ট বোঝার চেষ্টাই করছে না।’’ রাজ্যের কোষাগারের অবস্থা যদি সত্যিই খারাপ হয়, তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে একের পর এক উত্‌সব-অনুষ্ঠান কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে আনছেন সৌমেনবাবু। বিজেপির শহর সভাপতি অরূপ দাসের কটাক্ষ, “রাজ্য সরকার তো মেলা আর উত্‌সব নিয়েই ব্যস্ত! শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকারা বেতন পেলেন কি পেলেন না তা দেখার সময় কোথায়!”

মেদিনীপুর শহরে ১৫টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। সহায়িকা রয়েছেন ৫৯ জন। সহায়িকাদের প্রতি মাসে ৫,৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়। মৌসুমী গোস্বামী, লক্ষ্মী তুঙ্গ, শিপ্রা দাস প্রমুখ সহায়িকারও বক্তব্য, মাস পয়লা বেতন পেলেই সুবিধা। না হলে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এখন যেমন পড়তে হচ্ছে। এক সহায়িকার আক্ষেপ, “প্রাথমিক শিক্ষকদের থেকেও বেশি কাজ করতে হয় আমাদের। অথচ, বেতন পাই খুব কম। বেতন বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিনের। সরকার কোনও উচ্চবাচ্যই করছে না!”

তৃণমূল প্রভাবিত ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন’-এর জেলা নেতা সুব্রত সরকার বলেন, “মেদিনীপুর শহরের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকারা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বলে শুনেছি। আমি এ ব্যাপারে পুর-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আশা করি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। সহায়িকারা বকেয়া বেতন পেয়ে যাবেন।” কী বলছেন পুর-কর্তৃপক্ষ? পুরপ্রধান প্রণব বসু থেকে উপ-পুরপ্রধান জিতেন্দ্রনাথ দাস— সকলেরই এক বক্তব্য, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এক পুর-কর্তার মন্তব্য, ‘‘সহায়িকারা দু’-তিন মাসের বেতন একসঙ্গেই পেয়ে থাকেন। এ বার একটু দেরি হচ্ছে। পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া থাকলে সমস্যা হয় জানি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই!” বিরোধীদের খোঁচা প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রভাবিত রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের জেলা নেতা সুব্রতবাবু বলেন, “মেলা-উত্‌সব সামাজিক উন্নয়নেরই অঙ্গ। রাজ্যে কর্মযজ্ঞ চলছে। কারও হিংসা হতে পারে! তবে আমাদের কিছু করার নেই!”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy