Advertisement
E-Paper

প্রচার-পথে আকাল পড়েছে হুড খোলা জিপের

শেষকালে কি হুড খোলা জিপের বিকল্প হবে ম্যাটাডোর! প্রচার শুরুর পর এই আশঙ্কাটাই চড়া রোদের থেকেও ভাবাচ্ছে প্রতিটি দলের নেতাকর্মীদের। হুড খোলা জিপই ভোট-বাজারে বিরল। ঘাটালে রোড-শো করেছেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেব। দলের আরেক তারকা প্রার্থী সন্ধ্যা রায়ের আজ, শুক্রবার নারায়ণগড়ে প্রচার শুরু করার কথা। জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, পরে তাঁকে দিয়েও রোড-শো করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। সেখানেও বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে জিপ-সঙ্কট। তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোত্‌ ঘোষ বলেন, “বছর কয়েক আগেও জেলায় জিপ মিলত। এখন অন্য পরিস্থিতি।”

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৪ ০১:৫০
ঘাটালে দেবের রোড শো-র দিনেও বহু কষ্টে জোগাড় করা হয়েছিল হুড খোলা জিপ। ফাইল চিত্র।

ঘাটালে দেবের রোড শো-র দিনেও বহু কষ্টে জোগাড় করা হয়েছিল হুড খোলা জিপ। ফাইল চিত্র।

শেষকালে কি হুড খোলা জিপের বিকল্প হবে ম্যাটাডোর! প্রচার শুরুর পর এই আশঙ্কাটাই চড়া রোদের থেকেও ভাবাচ্ছে প্রতিটি দলের নেতাকর্মীদের। হুড খোলা জিপই ভোট-বাজারে বিরল।

ঘাটালে রোড-শো করেছেন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী দীপক অধিকারী ওরফে দেব। দলের আরেক তারকা প্রার্থী সন্ধ্যা রায়ের আজ, শুক্রবার নারায়ণগড়ে প্রচার শুরু করার কথা। জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, পরে তাঁকে দিয়েও রোড-শো করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। সেখানেও বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে জিপ-সঙ্কট। তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি প্রদ্যোত্‌ ঘোষ বলেন, “বছর কয়েক আগেও জেলায় জিপ মিলত। এখন অন্য পরিস্থিতি।”

চলতি মাসে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে পশ্চিম মেদিনীপুরে বেশ কয়েক’টি রোড-শো করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। প্রচারে আসতে পারেন ‘ড্রিমগার্ল’ হেমামালিনী থেকে শুরু করে শক্রুঘ্ন সিংহ মায় বিনোদ খন্নার মতো তারকারা। কিন্তু তাঁরা ঘুরবেন কীসে? হুড খোলা জিপই নেই! বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “ভোটের বাজারে জিপের বড্ড আকাল। কয়েক দিন ধরেই জিপের খোঁজ করছি। পাচ্ছি কই! দেখি কী হয়।” যদি জিপের খোঁজ না মেলে? তিনি বলছেন, “অগত্যা তখন না-হয় একটা ম্যাটাডোরই ভাড়া করতে হবে! ওই ম্যাটাডোরকেই হুড খোলা জিপের মতো করে সাজাব।”

শুধু বিজেপি নয়, ভোটের বাজারে হুড খোলা জিপের সন্ধানে নেমে সমস্যায় পড়ছেন সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাই। অন্য জেলাতেও খোঁজখবর নেওয়া চলছে। এক সময় জেলার হুড খোলা জিপগুলো অচল হয়ে গিয়েছে। ধুঁকছে মেরামতির অভাবে। মালিকেরাও আর সেগুলো রাখতে চান না। এ ব্যবসায় যে লাভের মুখ দেখাই ভার! পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘ দিন যুক্ত মৃগাঙ্ক মাইতি। তিনি বলছিলেন, “এখন আর কেউই হুড খোলা জিপ রাখতে চান না। রেখে কী লাভ? কবে ভোট আসবে, তখন বরাত মিলবে। অন্য সময় তো পড়েই থাকবে।” তাঁর মন্তব্য, “হুড খোলা জিপ রাখা আর হাতি পোষা এখন একই ব্যাপার!” জিপের আকালের কথা মানছেন ছোট লরি পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত শশধর পলমলও। তাঁর কথায়, “কয়েক জন জিপের খোঁজে এসেছিলেন। বহু খঁুজে একটা জিপেরই খোঁজ পেয়েছি। বাকি যে তিন-চারটের কথা শুনছি, সেগুলো দীর্ঘ দিন পড়ে আছে। মেরামত না-করালে চলবে না।” এই অবস্থায় যে ক’টি জিপ মিলছে, সেগুলির ভাড়াও থাকছে অন্য গাড়ির তুলনায় বেশি। প্রায় দু’হাজার। সঙ্গে তেল এবং ড্রাইভার খরচ।

পশ্চিম মেদিনীপুরে এ বার দু’দফায় ভোট। ৭মে ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরে। ১২ মে ঘাটালে। এপ্রিল থেকে টানা প্রচার কর্মসূচি রয়েছে সব দলের। সবক’টি দলেরই রোড-শো করার ভাবনা রয়েছে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি বিকাশ ভুঁইয়া বলেন, “একটা হুড খোলা জিপেরই খোঁজ পেয়েছি। আরও দু’-তিনটি হলে ভাল হয়।”

বামেরা অবশ্য জিপ নিয়ে ততটা চিন্তিত নন। সিপিআইয়ের জেলা সম্পাদক সন্তোষ রাণার মন্তব্য, “রোড-শো করেন স্টার-সুপারস্টাররা! আমরা পায়ে হেঁটেই মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছি।” সিপিআইয়ের এক জেলা নেতার কথায়, “রোড-শো হলে ম্যাটাডোর ভাড়া করলেই হবে!”

election campaign inadequacy of jeep
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy