Advertisement
E-Paper

পুলিশি হস্তক্ষেপে শুরু হল উত্‌পাদন

পুলিশি হস্তক্ষেপে উত্‌পাদন শুরু হল হলদিয়ার লালবাবা সিমলেস টিউব কারখানায়। বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ ছিল কারখানার উত্‌পাদন। যদিও এ দিন দুপুর থেকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বাদ দিয়েই উত্‌পাদন শুরু হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০১৫ ০০:০৮
কারখানায় ঢুকছেন শ্রমিকেরা। শুক্রবার। —নিজস্ব চিত্র।

কারখানায় ঢুকছেন শ্রমিকেরা। শুক্রবার। —নিজস্ব চিত্র।

পুলিশি হস্তক্ষেপে উত্‌পাদন শুরু হল হলদিয়ার লালবাবা সিমলেস টিউব কারখানায়। বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ ছিল কারখানার উত্‌পাদন। যদিও এ দিন দুপুর থেকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বাদ দিয়েই উত্‌পাদন শুরু হয়। কারখানায় উত্‌পাদন চালু করতে শুক্রবার সকালে ভবানীপুর থানার ওসি রাজা মুখোপাধ্যায়, মালিকপক্ষ, শ্রমিক ইউনিয়ন, ছাঁটাই হওয়া কর্মী ও ঠিকাদারদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, নোটিস ছাড়া মৌখিকভাবে কারখানার কোনও শ্রমিককে ছাঁটাই করা যাবে না। এ ছাড়াও কারখানার সমস্ত ঠিকা শ্রমিকদের কারখানার কাজে যোগদানের সময় ক্রম অনুযায়ী তালিকা তৈরি করতে হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে যে সমস্ত শ্রমিকেরা শেষের দিকে কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ‘লাস্ট কাম, ফার্স্ট গো’ নিয়মের ভিত্তিতে ছাঁটাই করতে হবে। তাছাড়াও বৈঠকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ‘ছাঁটাই বেনিফিট’-এর সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তেও সম্মত হন মালিকপক্ষ। কারখানার প্রবেশপথে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। কারখানার ম্যানেজার বিনোদকুমার মিশ্র বলেন, “পুলিশ হস্তক্ষেপে এ দিন কাজ শুরু হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কারখানায় কাজ করে। তাই আমরা ঠিকাদার সংস্থাকেই শ্রমিক কমানোর নোটিস দিয়েছি। ঠিকাদার সংস্থাগুলিই ছাঁটাই কর্মীদের ‘ছাঁটাই বেনিফিট’ দেবে।”

শুক্রবার সকাল থেকে কারখানায় উত্‌পাদন বন্ধই ছিল। এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ অন্য কর্মীদের সঙ্গে ছাঁটাই হওয়া কর্মীরাও কারখানায় ঢুকতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের বাধা দেয়। সেই সময় ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা কাকানায় ঢুকতে চেয়ে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। যদিও এ দিন বড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। এ দিন ছাঁটাই হওয়া কর্মী বিকাশচন্দ্র ঘোড়ই বলেন, “নিয়ম মেনে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়নি। এ দিন থানায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” তিনি জানান, কারখানার ঠিকাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে তার ভিত্তিতে শেষের দিক থেকে ছাঁটাই করতে হবে। নিয়ম মেনে ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরির আলোচনা হওয়ায় আমরা আন্দোলন থেকে সরে এসেছি। কর্মীরাও কাজে যোগ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ওই কারখানার ৩৮ জন ঠিকাকর্মীকে ছাঁটাই করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বাজারে মন্দার জেরে কারখানার অতিরিক্ত শ্রমিকের বোঝা কমাতে গত শনিবার কারখানা কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার সংস্থাকে নোটিস দিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা বলে। সেই মতো বৃহস্পতিবার ঠিকাদার সংস্থা তাঁদের অধীনে কর্মরত ফোন মারফত্‌ ৩৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করার কথা বলে। তারপরই কারখানার গেটে আন্দোলন শুরু করেন ছাঁটাই কর্মীরা। আন্দোলনের জেরে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অন্য কর্মীরাও কারখানায় ঢুকতে পারেননি। শুক্রবার পুলিশের উপস্থিতিতে কর্মীরা কারখানায় কাজে যোগ দেন। বৃহস্পতিবারই বিনোদবাবু বলেন, “ভিন্‌দেশের পাইপ বাজারে ঢোকায় আমাদের পাইপের চাহিদা কমেছে। ফলে উত্‌পাদন কমাতে হয়েছে। তাই ৩৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।”

বিনোদবাবু জানান, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কোনও দাবি থাকলে তাঁরা শ্রম দফতরে জানাক। আর শ্রমিকদের তালিকা ঠিকাদার সংস্থাই তৈরি করবে। কারখানায় চারটি ঠিকাদার সংস্থা কাজ করে। আমরা ঠিকাদার সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নকে বলছি, কাদের ছাঁটাই করা যাবে, তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করে দিন। কারখানার এক ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম, “খারাপ অবস্থার জেরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিক কমানোর কথা বলেছেন। আমরা সব পক্ষের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের নামের তালিকা তৈরি করব। ছাঁটাই কর্মীদের সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছেন।”

হলদিয়ার উপ-শ্রম কমিশনার মিহির সরকার বলেন, “ওই কারখানার বিষয়ে কোনও পক্ষ এ দিন পর্যন্ত কিছু জানায়নি।” তিনি জানান, ঠিকাকর্মীদের ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে ‘লাস্ট কাম ফার্স্ট গো’ নিয়ম রয়েছে। তাছাড়াও ওই কর্মীদের অন্যান্য ছাঁটাই বেনিফিটও দিতে হয়।

lal baba seamless tubes factory haldia production
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy