Advertisement
E-Paper

ফের সভার ভাবনা বিজেপি-র

দিন কয়েক আগেই মেদিনীপুরে বিজেপির তারকাখচিত সভার ভিড় দেখে উজ্জীবিত নেতৃত্ব। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সভার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ওই সভা জেলার সদর শহরেই হতে পারে। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শনিবার শহরে জেলা বিজেপির এক সাংগঠনিক সভা হয়। সভায় দলের ব্লক সভাপতি এবং জেলার কার্যকর্তারা ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৩২
মেদিনীপুরে দলীয় বৈঠকে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি

মেদিনীপুরে দলীয় বৈঠকে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি

দিন কয়েক আগেই মেদিনীপুরে বিজেপির তারকাখচিত সভার ভিড় দেখে উজ্জীবিত নেতৃত্ব। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সভার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ওই সভা জেলার সদর শহরেই হতে পারে। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

শনিবার শহরে জেলা বিজেপির এক সাংগঠনিক সভা হয়। সভায় দলের ব্লক সভাপতি এবং জেলার কার্যকর্তারা ছিলেন। বিজেপির জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহও। দলীয় সূত্রে খবর, মেদিনীপুরের এই সাংগঠনিক সভায় অমিত শাহের সভার প্রসঙ্গও ওঠে। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা করার জন্য জেলা নেতৃত্বকে পরামর্শও দেওয়া হয়। সাংগঠনিক সভা শেষে রাহুলবাবু বলেন, “কেন্দ্রীয় সভাপতির সাতটা সেক্টরে সাতটা জনসভা হবে। সভাস্থলগুলো কোথায় কবে হবে তা আমরা পরে পর্যায়ক্রমে জানাব।” অমিত শাহের সভা কি মেদিনীপুরে হতে পারে? দলের জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত জবাব, “আলোচনা চলছে। তবে কিছু চূড়ান্ত হয়নি।”

সভায় দলের নানা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। রাজ্য সভাপতি রাহুলবাবু জেলা নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। সভা শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুলবাবু বলেন, “এখানে যে জনসভা হয়েছে, সেই জনসভা স্বাভাবিক ভাবেই কার্যকর্তাদের, মানুষের মনোবল বাড়িয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে যে বিজেপি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী তার প্রমাণ দিয়েছে।” তিনি জানান, ‘‘বিজেপি যুক্ত, তৃণমূল মুক্ত বাংলা চাই- এই স্লোগান নিয়ে আমাদের লোকেরা ব্লকে ব্লকে আন্দোলন শুরু করবে। ১০- ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা বাংলার সমস্ত জেলায় আইন অমান্য কার্যক্রম হবে। জানুয়ারিতে প্রতি বিধানসভায় বুথ কর্মী সম্মেলন হবে। ইতিমধ্যে বুথ তৈরির কাজ আমাদের চলছে।” ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ব্লকে ব্লকে অবস্থান কর্মসূচি হবে বলেও জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

মেদিনীপুরের জনসভা থেকে জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষকে বিঁধেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। ভারতীদেবী জানিয়েছিলেন, তিনি কোর্টে যাবেন। এ ব্যাপারে এ দিন রাহুলবাবু বলেন, “যা সত্য তাই বলা হয়েছে। কোন দিন কোন এসপি- ডিএমকে শুনেছেন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করতে। এই বক্তব্য পেশ করে উনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, যেটা আমরা বলেছি, সেটা সঠিক।’’ পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “আদালতে দেখা তো হবেই। রাজ্য বিজেপি ওঁর বিরুদ্ধে ছ’মাস আগে হাইকোর্টে একটি মামলা করেছে। সেইটা উনি জানেন। সেই কারণে আদালতে তো দেখা হবেই।”

রাহুলবাবু বলেন, “পুলিশ সুপারকে বলছি, সহিষ্ণুতা রাখুন। সব দলের সঙ্গে ন্যায় করুন। সকলের জন্য কাজ করুন। যাতে আমাদের দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য করতে না হয়। সাধারণ বিজেপি কর্মীদের মাওবাদী মামলা দেওয়া হয়েছে। যত মামলা দেবেন, তত দল বাড়বে। দমনপীড়ন করে ক্ষমতায় থাকা যায় না। সিপিএম থাকতে পারেনি। তৃণমূলও থাকতে পারবে না।” জেলে মদন মিত্রের বাড়তি সুযোগ- সুবিধা পাওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, “এমনও হয়েছে দেখা গিয়েছে, বেশি সুবিধা সরকারিপক্ষ থেকে দিলে আবার জেলের জায়গাটাও কিন্তু পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। দেখবেন চলে গেল ঝাড়খণ্ডে! সেই কারণে আমি মদন মিত্রকে কিংবা বাকিদের এটাই পরামর্শ দেবো, বেশি সুযোগ- সুবিধার ব্যবস্থা করতে যাবেন না।” রাহুলবাবু বলেন, “এখন উনি মন্ত্রীও নন, কোনও ভিআইপিও নন। আর যে লোকের টাকা আত্মসাত্‌ করেছে তার আবার ভিআইপির কি আছে, আর মন্ত্রীর কি আছে। চোর চোরই আছে। সে যে পদেই থাকুক না কেন!”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy