রাজ্যে বিজেপিকে ঠেকাতে শ্রেণি সংগ্রাম গড়ে তোলার ডাক দিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল চক্রবর্তী। তাঁর মতে, “শ্রেণি সংগ্রামই পারে বিভেদকামী শক্তিকে পরাজিত করতে। সাম্প্রদায়িকতাকে ধুয়েমুছে সাফ করে দিতে।” সুকুমার সেনগুপ্ত স্মারক বক্তৃতায় যোগ দিতে রবিবার মেদিনীপুরে এসে তৃণমূল— বিজেপি দু’দলেরই কড়া সমালোচনা করেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল চক্রবর্তী।
অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণসংগ্রাম ও কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে তোলার অগ্রপথিক ছিলেন প্রয়াত সুকুমারবাবু। এ দিন দুপুরে শহরের বিদ্যাসাগর হলে ‘সাম্প্রদায়িকতাবাদ: ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বিষয়ের উপর বক্তৃতা দেন শ্যামলবাবু। স্মারক বক্তৃতার এ বার ছিল নবম বর্ষ। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে যা চলছে তাতে সাময়িক ভাবে কারও লাভ হতে পারে, কিন্তু আগামী দিনে রাজ্যের ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়ে যাবে। বস্তুত, রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এ জেলাতেও সিপিএমের সংগঠনে ধস নামে। জনভিত্তি হ্রাস পাওয়ার কিছু কারণ দলীয়স্তরে আগে চিহ্নিতও করা হয়। কিন্তু দেখা গিয়েছে, তাও জনসংযোগে ঘাটতি থেকে গিয়েছে। শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যে এই পরিস্থিতি কাঠিয়ে ওঠা সম্ভব, এদিন তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্যামলবাবু। স্মারক বক্তৃতা সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক দীপক সরকার, দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তরুণ রায়।
আরএসএসের প্রচারকদের দিয়েই বিজেপিকে সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শ্যামলবাবুর কথায়, “দেশে যে জাতীয়তাবাদের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী উপাদান নেই। মুখে সকলকে নিয়ে উন্নয়নের কথা বলা হলেও আসলে সকলকে বাদ দিয়ে মুষ্টিমেয়কে নিয়ে উন্নয়ন করছে শাসক শ্রেণি। এখনকার সরকার দমননীতি নিয়ে চলতে চায়।” তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদ নির্মূল করার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি দেখে ওরা পালিয়ে আসছে। এ রাজ্যে ওরা ঘাঁটি গড়ছে কাদের সাহায্যে? শাহবাগ আন্দোলন যখন হচ্ছিল, তখন বর্ধমানে মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে তৃণমূল নেতারাও ছিল। একতলায় দলের অফিস, দোতলায় ঘাঁটি। কেন করছে এ সব? কিছু মুসলিম ভোট পাওয়ার জন্য তাই তো?” তাঁর কথায়, “ইমরামকে কী করে সাংসদ করা হল? পরিকল্পনা না- করে কী সাংসদ করা যায়?” শ্যামলবাবুর দাবি, “তৃণমূলের সাহায্য না পেলে উগ্রপন্থীরা এ রাজ্যে ডেরা বাঁধতে পারত না। ফলে, বর্ধমানের ঘটনার দায় তৃণমূলের অবশ্যই আছে।” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “ওরা (তৃণমূল) তো চিরকালই কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের পক্ষে কথা বলেছে। এখন বিরোধীতা কেন? এনআইএ কী করতে পারবে জানি না, তবে ওদের ক্ষমতা আছে।”