জেলার অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ইতিমধ্যে সেই বিদ্যালয়গুলিতে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে উদ্যোগী হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। বুধবার এ নিয়ে মেদিনীপুর শহরে জেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক হয়। জেলার সব মাধ্যমিক- উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে মেদিনীপুরের জেলা পরিষদ হলে জেলা পরিষদের উদ্যোগেই এই সভা হয়। সেখানে সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের মধ্যে সব স্কুলে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগহীন স্কুলগুলিকেও উদ্যোগী হতে হবে। তবে প্রশাসনও সব রকম সহযোগিতা করবে।
বুধবার দু’টি পর্যায়ে এই সভার হয়। প্রথম পর্যায়ে ঝাড়গ্রাম এবং ঘাটাল মহকুমার অন্তর্গত স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকেরা ছিলেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে মেদিনীপুর এবং খড়্গপুর মহকুমার অন্তর্গত স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষকেরা ছিলেন। প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা-মত বিনিময় করতেই এই সভার আয়োজন বলে জানান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা, জেলা সভাধিপতি উত্তরা সিংহ, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সঙ্ঘমিত্র মাকুড় প্রমুখ।
পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় ৮,৫০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০০টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। বাকি প্রায় ৫,৫০০টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, চলতি বছরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে পদক্ষেপও করা হচ্ছে। জেলায় মোট উচ্চ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১,২৬৩টি। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৬৮টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৭১টি এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫২৪টি। মাদ্রাসা ১৮টি। সভায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। যেমন কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী প্রভৃতি। জেলা পরিষদ কর্তারা জানান, কী ভাবে প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে আরও কী কী করতে হবে।
এই সব সরকারি প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোরও যে একটা ভূমিকা রয়েছে, বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপস্থিত সকলে তাই বুঝিয়ে দেন। জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেন, “কন্যাশ্রী-শিক্ষাশ্রীর মতো প্রকল্প থেকে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে।” স্কুলছুট ছেলেমেয়েদের স্কুলে ফেরানোরও নির্দেশ দেন তিনি। জেলাশাসকের কথায়, “শিক্ষার অধিকার আইন চালু হয়েছে। স্কুল ছুটদের ফেরাতে হবে।” জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সঙ্ঘমিত্র মাকুড় বলেন, “গতানুগতিক যে বৈঠক হয়, তার বাইরে বেরিয়ে এই বৈঠক হচ্ছে। স্কুলগুলো যাতে ভাল ভাবে চলে, সেই জন্য জেলা পরিষদ ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করেছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প চলে স্কুলগুলোয়। এই সব প্রকল্পগুলো যাতে ঠিকঠাক ভাবে চলে, সেই দিকে নজর রাখতে হবে। যে সব স্কুলে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিদ্যুতিকরণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদ্যুৎ পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।”