Advertisement
E-Paper

ভবন তৈরিই সার, প্রশ্ন উঠছে ভবিষ্যৎ নিয়ে

বছর পাঁচেক আগে প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। অথচ, আজও তা চালু হল না! দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত থাকায় ইতিমধ্যেই কমপ্লেক্সের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি দেখে শেষমেশ কমিটি গড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। এই কমিটিই কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত পাঁচখুরী মার্কেট কমপ্লেক্সের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গড়া হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০১৪ ০০:৩১
জনশূন্য ভবন চত্বর। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ

জনশূন্য ভবন চত্বর। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ

বছর পাঁচেক আগে প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। অথচ, আজও তা চালু হল না! দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত থাকায় ইতিমধ্যেই কমপ্লেক্সের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি দেখে শেষমেশ কমিটি গড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। এই কমিটিই কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত পাঁচখুরী মার্কেট কমপ্লেক্সের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গড়া হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন জেলা পরিষদের সচিব দিব্যনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরি, বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ কাজী আব্দুল হামিদ। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ বলেন, “পাঁচখুরীর মার্কেট কমপ্লেক্সটি অনেক দিন ধরে পড়ে রয়েছে। এটি চালু করতে ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছি। কমপ্লেক্সটি চালু হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।”

এই মার্কেট কমপ্লেক্স নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ শৈবাল গিরির অভিযোগ, “বাম-আমলে সব দিক খতিয়ে না-দেখেই ওখানে কমপ্লেক্স গড়া হয়। তাই আজ এই পরিস্থিতি।” তাঁর কথায়, “যেখানে কমপ্লেক্সটি গড়ে উঠেছে, সেখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও রয়েছে। আমি শুনেছি, অনুমতি ছাড়া সেই জমির উপর নির্মাণ কাজ হওয়ায় জমির মালিক কোর্টে মামলা করেছেন। মামলা এখনও চলছে। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে ওখানে মার্কেট কমপ্লেক্স চালু হবে?”

জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি অন্তরা ভট্টাচার্যের অবশ্য দাবি, “সব দিক খতিয়ে দেখেই পাঁচখুরী মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ হয়েছে। জমির কোনও সমস্যা রয়েছে বলে আমার জানা নেই। থাকলে তো কাজ শুরুর সময়ই এ নিয়ে আপত্তি উঠত।” অন্তরাদেবীর কথায়, “যেখানে হাট বসে, সেখানকার ব্যবসায়ীরা এই কমপ্লেক্সে উঠে আসতে রাজি নন। তাই পাঁচখুরীর কমপ্লেক্সটি চালু করা যায়নি। সমস্যার সমাধানে কয়েকবার উদ্যোগী হয়েছিলাম। তবে সমাধান হয়নি।” এই সমস্যা যে রয়েছে, তা মানছেন মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হরেন্দ্রনাথ মাহাতোও। তবে তাঁর আশা, শীঘ্রই মার্কেট কমপ্লেক্সটি চালু করা যাবে।

মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত এই এলাকায় হাট বসে। প্রতি শনিবার। এটিই মেদিনীপুরের সবথেকে বড় হাট। প্রায় ৮০০টি দোকান রয়েছে। দাসপুর, কেশপুর, শালবনি, খড়্গপুর-সহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আসেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি। পাঁচখুরীতে বড় বাজারও রয়েছে। অস্থায়ী ছাউনি বানিয়ে হাট চলে। ফলে, নানা সমস্যাও হয়। সামান্য বৃষ্টি হলে জল জমে যায়। দুর্ভোগে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই। কাদাজল পেরিয়েই হাটে আসা মানুষদের যাতায়াত করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসাও মার খায়।

পরিস্থিতি দেখে পাঁচখুরীতে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরিতে এক সময় উদ্যোগী হয় জেলা পরিষদ। আরআইডিএফ ফান্ড (গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল) থেকে বরাদ্দ হয় প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা। ২০০৭ সালের ২০ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় বছরের মাথায় ২০০৯ সালের ২৪ জুন মার্কেট কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হয়। ঘটা করেই এই প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়েছিল। শিলান্যাস করেছিলেন জেলা পরিষদের তৎকালীন সভাধিপতি পুলিনবিহারী বাস্কে। পরে জেলা সভাধিপতি হন অন্তরা ভট্টাচার্য। পুলিনবাবু সভাধিপতি থাকাকালীন যে কাজ শুরু হয়েছিল, তা শেষ হয় অন্তরাদেবী সভাধিপতি থাকাকালীন।

অথচ, ২০০৯ সালে কাজ শেষ হলেও আজও পাঁচখুরীর মার্কেট কমপ্লেক্স চালু হয়নি। পেরিয়ে গিয়েছে পাঁচ-পাঁচটা বছর। দীর্ঘ দিন অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকায় কমপ্লেক্সের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। কিছু জায়গায় পলেস্তারা খসেছে। ভারী বৃষ্টি হলে দেওয়াল বেয়ে জলও পড়ে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জেলা পরিষদ একটি কমিটি গড়লেও কমপ্লেক্সটি কবে চালু হবে, সেই নিয়ে অবশ্য সংশয় রয়েই গিয়েছে।

panchkhuri market complex yet to open
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy