বাসের সঙ্গে মোটরবাইকের সংঘর্ষে এক দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালায়। বাসের চালক ও খালাসিদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ভোর থেকে ঘাটাল ও পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘাটাল ও পাঁশকুড়া রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাসকর্মীরা। এ দিন সকালে ঘাটাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাসকর্মীরা রাস্তা অবরোধও করেন। এরফলে ঘাটাল-পাঁশকুড়া রুটের বাস ছাড়াও আরামবাগ, তারকেশ্বর, বর্ধমান-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে হলদিয়া, হাওড়া প্রভৃতি দূরপাল্লার রুটের বাসও আটকে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ বাসে আটকে থেকে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।
পাঁশকুড়া স্টেশন বাস পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক শেখ লতিফের অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় ওই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ওই রুটে চলাচলকারী অন্য বাসকর্মীদের ব্যাপক মারধর করে। বাসচালক-কর্মী মিলে মোট ১২ জন আহত হন। বেশ কয়েকটি বাসে ভাঙচুরও চালানো হয়। এবিষয়ে পুলিশকে অভিযোগ জানানো হয়েছে।” ঘাটাল-পাঁশকুড়া স্থানীয় রুটের বাস চলাচলও বন্ধ থাকায় নিত্যযাত্রীরা পাঁশকুড়া রেল স্টেশনে যেতে সমস্যায় পড়েন। এ দিন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘাটালের মহকুমা শাসক অদীপ রায় বাসকর্মীদের অবরোধ তোলার জন্য ঘাটাল থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মহকুমাশাসকের হস্তক্ষেপে ঘাটাল থানার ওসি পাঁশকুড়া থানার ওসির সঙ্গে আলোচনার পর তৃণমূল প্রভাবিত বাসকর্মী ইউনিয়নের নেতাদের আশ্বাস দেন, বাসকর্মীদের মারধর করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পর বাসকর্মী ইউনিয়নের অবরোধ উঠে যায়। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ দূরপাল্লার যাত্রীবাসগুলি চলাচল শুরু করে। ঘাটাল-পাঁশকুড়া রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকে।
প্রসঙ্গত, যাত্রীবোঝাই বাসের সঙ্গে মোটরাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মঙ্গলবার পাঁশকুড়া থানার মেচগ্রাম বাজার থেকে কিছুটা দূরে উত্তর মেচগ্রামে ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে এক দম্পতির মৃত্যু হয়। মৃত দম্পতি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার শয়লা গ্রামের বাসিন্দা। ওই ঘটনার পরই উত্তেজিত জনতা অন্য কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালায়। ঘাটালের তৃণমূল প্রভাবিত পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের নেতা মেহের আলি খানের অভিযোগ, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ যেভাবে বাসকর্মীদের মারধর করেছে ও বাস ভাঙচুর করেছে তাতে ওই রুটের বাসকর্মীরা আতঙ্কে ভুগছে। তাঁরা ওই রুটে বাস চালাতে সাহস পাচ্ছে না। বাস কর্মীদের উপর আক্রমণে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে।” বাস মালিকদের পক্ষে প্রভাত পান বলেন, “যে কোনও দুর্ঘটনাই দু:খজনক। কিন্তু বাস থামিয়ে ভাঙচুর ও বাসের চালক ও খালাসিদের মারধরের ঘটনা কখনও মেনে নেওয়া যায় না।”
ঘাটালে বাসকর্মীদের অবরোধের জেরে বিপাকে পড়েন দূরপাল্লা-সহ বিভিন্ন রুটের বাসযাত্রীরা। বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঘাটাল শাখার সম্পাদক মোহন বাগ বলেন, “বাসকর্মীদের উপর স্থানীয় বাসিন্দাদের আক্রমণ খুবই উদ্বেগজনক। আমরা চাই এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুকেশকুমার জৈন বলেন, “পাঁশকুড়ায় বাস দুর্ঘটনার পর বাসকর্মীদের মারধর ও বাস ভাঙচুরের বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”