সাধারণত মেদিনীপুর শহরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জেলা কমিটির বর্ধিত সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি সিপিএম, তৃণমূল, কংগ্রেসের মতো দলগুলোরও বর্ধিত সাধারণ সভা জেলার সদর শহর মেদিনীপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজেপি কিন্তু সেই শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে দলের জেলা কমিটির বর্ধিত সাধারণ সভা অন্যত্র করতে চলেছে। ব্লকস্তরে সংগঠন সাজাতেই এই উদ্যোগ বলে দলীয় সূত্রে খবর। আজ, বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিজেপির বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে গড়বেতা-৩ এর চন্দ্রকোনা রোডে। স্থানীয় এক সভাঘরে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত থাকার কথা রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, দলের রাজ্য কমিটির তরফে নিযুক্ত এ জেলার পর্যবেক্ষক কৃষ্ণা ভট্টাচার্য প্রমুখের।
কেন এমন সিদ্ধান্ত? বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “এটা আমাদের সাংগঠনিক ব্যাপার।” তাঁর আরও সংযোজন, “এটা তো ঠিক, যে এলাকায় জেলা কমিটির সভা হবে, সেই এলাকায় এর একটা প্রভাব পড়বে। দলের কর্মী- সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা দেবে।” পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জেলার যে সব এলাকায় বিজেপি বাড়তে শুরু করেছে, তার মধ্যে গড়বেতা-৩ অন্যতম। সম্প্রতি এই এলাকার স্কুল নির্বাচনেও দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়। প্রার্থী হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই জেলার এই এলাকায় বর্ধিত সাধারণ সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী দিনে অন্য ব্লকেও এ ভাবে জেলার বর্ধিত সাধারণ সভা হবে বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন তুষারবাবু। তাঁর কথায়, “এ বার চন্দ্রকোনা রোডে হচ্ছে। পরে অন্য ব্লকেও সভা হবে।”
বুধবারের সভায় ঠিক কী আলোচনা হবে? দলীয় সূত্রে খবর, পুজোর পরপরই জেলা জুড়ে আন্দোলনে নামতে চলেছে বিজেপি। সেই আন্দোলনের রণকৌশল নিয়েই সভায় আলোচনা হওয়ার কথা। আগামী বছরে জেলার ছ’টি পুরসভায় নির্বাচন রয়েছে। পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও বর্ধিত সভায় আলোচনা হওয়ার কথা। বস্তুত, ইতিমধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলায় বাড়তে শুরু করেছে বিজেপি। আগে ‘লালদুর্গ’ বলে পরিচিত এ জেলার সর্বত্র বিজেপির তেমন সংগঠনই ছিল না। গত লোকসভায় কার্যত বিনা সংগঠনেই এ জেলায় ১০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি। উল্লেখযোগ্য হল, লোকসভার ফলকে বিধানসভা কেন্দ্রওয়াড়ি হিসেবে ধরলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে যেখানে একটিতেও এগিয়ে নেই বামফ্রন্ট। এমনকী সূর্যকান্ত মিশ্রের নারায়ণগড়, সুশান্ত ঘোষের গড়বেতাতেও বামেরা বিপুল ভোটে পিছিয়ে রয়েছে, সেখানে প্রবীণ কংগ্রেস বিধায়ক জ্ঞান সিংহ সোহন পালের খড়্গপুর সদরে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। জেলায় এই ভোটপ্রাপ্তির পিছনে যে মোদী-হাওয়া কাজ করেছে, তা মানছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্বও। তাই এখন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য, এই জনসমর্থনকে সাংগঠনিক খাঁচার মধ্যে নিয়ে আসা।
একাংশ জেলা নেতৃত্ব মনে করেন, মোদী- হাওয়ায় ভর করে সমর্থন পাওয়া যতটা সহজ হয়েছে, সাংগঠনিক দিক থেকে এই সমর্থন ধরে রাখা তার থেকে অনেক কঠিন কাজ। সংগঠন না- বাড়লে তৃণমূলের মতো দলের সঙ্গে টক্কর দেওয়াও কঠিন। সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে এখন থেকে স্কুল পরিচালন সমিতি, সমবায় সমিতির মতো নির্বাচনে লড়াই করার জন্যও ব্লকস্তরে নির্দেশ পাঠিয়েছে জেলা বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি তুষারবাবু বলেন, “সভায় পুরভোটের প্রস্তুতির কথাও উঠে আসবে। জেলার ছ’টি পুরসভা নির্বাচনে সাফল্য পেতে আমরা প্রস্তুতি শুরু করেছি।”