Advertisement
E-Paper

সংবর্ধনা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পালিত শিক্ষক দিবস

কোথাও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা আবার কোথাও বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হল পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর দুই জেলায়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ অফিস প্রাঙ্গণে শিক্ষক দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০২:১১
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনতে ব্যস্ত খড়্গপুরের জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।  ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনতে ব্যস্ত খড়্গপুরের জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

কোথাও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা আবার কোথাও বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হল পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর দুই জেলায়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ অফিস প্রাঙ্গণে শিক্ষক দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী, জেলা সভাধিপতি মধুরিমা মণ্ডল, জেলাশাসক অন্তরা আচার্য প্রমুখ। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নন্দকুমার ব্লকের আলাশুলি গোরাচাঁদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব নির্মিত দু’টি শ্রেণিকক্ষের উদ্বোধন করেন তমলুকের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী। সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ অর্থে ওই শ্রেণিকক্ষটি নির্মিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকা ‘অন্তরবিকাশ’ উদ্বোধন করেন শুভেন্দুবাবু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকুমার বেরা প্রমুখ। যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এ দিন তমলুকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কলেজ ও বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ জন শিক্ষককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কাঁথি পুরসভার উদ্যোগে কাঁথি বীরেন্দ্র স্মৃতি সৌধে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ৮০ শতাংশ ও তার বেশি নম্বর প্রাপক ২৩৫ জন ছাত্রছাত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত সাত জন শিক্ষক -শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শিশির অধিকারী, সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী, কাঁথি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ কাঙালচন্দ্র দাস, বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী ও পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারী-সহ পুরসভার কাউন্সিলাররা। দেশপ্রাণ ব্লকের মুকুন্দপুরে তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষাসেল-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও শিক্ষক নেতা বলাই পয়ড়া প্রমুখ। কাজলা জনকল্যাণ সমিতির শিশু সদস্যরা দশ জন শিক্ষককে সংবর্ধনা জানায়।

অন্য দিকে, খড়্গপুর মহকুমার বিভিন্ন স্কুল-কলেজেও পালিত হয় শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান। খড়্গপুরের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতা শোনানোর জন্য ‘জায়ান্ট স্ক্রিন’-এর ব্যবস্থা হয়েছিল। ইন্দা কৃষ্ণলাল শিক্ষানিকেতনে এ দিন শিক্ষকদের সম্মান জানাতে ভিড় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররাও। পরে স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য একটি ক্যুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পার্থ ঘোষ বলেন, “শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান সর্বত্র হয়। কিন্তু আমাদের স্কুলের প্রাক্তন পড়ুয়ারা যে স্কুলকে ভুলে যায়নি, এই শিক্ষক দিবসে আরও একবার তার প্রমাণ পেলাম।” এ দিন ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত বলরামপুর অভয় আশ্রম নৈতালিন বিদ্যাপীঠের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন থিমে আবির, রঙ দিয়ে সাজিয়ে বাল্যবিবাহ, বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। স্কুলের বাংলা শিক্ষক বিদ্যুৎ ভুঁইয়ার কথায়, “আমাদের স্কুলে বরাবরই বাহ্ম সমাজের প্রথা মেনে চলা হয়। শিক্ষক দিবসেও তার কিছুটা প্রতিফলন পড়ে।”

শহরের সিলভার জুবিলি হাইস্কুলে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে কৃতী পড়ুয়া ও সম্প্রতি আয়োজিত জেলা পোস্টার প্রতিযোগিতায় সফল স্কুল পড়ুয়াদের পুরস্কার দেওয়া হয়। রেলশহরের দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বালক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটি ক্লাসেই আলাদা করে অনুষ্ঠান করে শিক্ষকদের উপহার দিয়ে সম্মান জানায় ছাত্ররা। খড়্গপুর কলেজের ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকেও রাধাকৃষ্ণনের ছবিতে মাল্যদান করে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।

বেলদা গঙ্গাধর আকাদেমিতে এ দিন স্কুলের পড়ুয়ারাই শিক্ষক সেজে ক্লাস নেয়। আবার বেলদার ঠাকুরচকে তৃণমূলের কংগ্রেসের ব্লক কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিবশঙ্কর মহাপাত্র, বেলদা কলেজের পরিচালন সমিতির সদস্য জন্মেঞ্জয় সাহু, ব্লক তৃণমূল সভাপতি মিহির চন্দ প্রমুখ। সবংয়ের বসন্তপুর ঝাড়েশ্বর বাণীভবনে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র তথা স্থানীয় বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। এ দিন মানসবাবু স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পশুপতি রায়ের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে মানসবাবু বলেন, “শিক্ষার গুণগত মান ক্রমশ কমছে। শিক্ষার মান বজায় রাখা শিক্ষক ও পড়ুয়া উভয়ের দায়িত্ব, সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।”

teachers day medinipur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy