Advertisement
E-Paper

টাকা ছাড়াই দুধ কিছু ভেন্ডারকে

একটানা ছ’মাস দুধ বণ্টনকারী ভেন্ডারের টাকা জমা পড়েনি সরকারি তহবিলে। অথচ তাঁদের নামে লিটার লিটার দুধ দেওয়া হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি যখন নজরে এল, তত ক্ষণে এ ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা!

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৭ ০২:৪৮

একটানা ছ’মাস দুধ বণ্টনকারী ভেন্ডারের টাকা জমা পড়েনি সরকারি তহবিলে। অথচ তাঁদের নামে লিটার লিটার দুধ দেওয়া হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি যখন নজরে এল, তত ক্ষণে এ ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা!

এক-আধ দিন ভেন্ডারদের টাকা সরকারি অ্যাকাউন্টে ঠিক সময়ে জমা না-পড়লেও মানুষের প্রয়োজনের কথা ভেবে দুধ দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু টানা ছ’মাস একই ঘটনা কী ভাবে ঘটল এবং কেনই বা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। তবে রাজ্যের দুগ্ধ কমিশনার পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘টাকা জমা না-দিলেও কিছু চেনা ভেন্ডারকে স্রেফ পরিচিতির সূত্রে দুধ দেওয়া হয়েছে। টাকাটা ওঁরা দ্রুত দিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’’

নিছক পরিচিতির জোরেই কি সরকারি নিয়ম ভাঙা যায়? নাকি ছ’মাস ধরে টাকা জমা না-নিয়ে চার-পাঁচ জন বাছাই করা ভেন্ডারকে দুধ দেওয়ার পিছনে এক শ্রেণির কর্তাকে কিছু সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চক্র কাজ করছে? এই অনিয়মের মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

Advertisement

সরাসরি জবাব এড়িয়ে দুগ্ধ কমিশনার বলেন, ‘‘আমরা কী ধরনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছি, তা সংবাদমাধ্যমকে বলব না।’’

বেলগাছিয়ার সেন্ট্রাল ডেয়ারিতে দিনে প্রায় ২৫ হাজার লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের রয়্যাল এক্সচেঞ্জ ব্রাঞ্চে অ্যাকাউন্ট আছে দুগ্ধ ডিরেক্টরেটের। নিয়ম হল, ভেন্ডারেরা দুধ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে কত লিটার দুধ দরকার, তা জানিয়ে সেই দুধের দাম ওই অ্যাকাউন্টে জমা দেবেন। সেই টাকা জমা পড়ল কি না, সেটা যাচাই করে দুধ দেওয়ার ছাড়পত্র দেবেন সহকারী দুগ্ধ কমিশনার। প্রশ্ন উঠছে, ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে টাকা জমা না-পড়া সত্ত্বেও ওই সব ভেন্ডার দুধ পেয়ে গেলেন কী ভাবে?

দফতরের খবর, তিমিরকান্তি হাজরা নামে যে-সহকারী দুগ্ধ কমিশনারের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে, তিনি বদলি হয়ে গিয়েছেন। এই অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব, ‘‘যা বলার কমিশনার বলবেন।’’ তিমিরবাবুর জায়গায় আসা যুগ্ম দুগ্ধ কমিশনার সুশান্তকুমার দাস ২ মার্চ ডিরেক্টরেটে চিঠি দিয়ে বলেছেন, ‘‘৩২ লক্ষ টাকার অনিয়ম হয়েছে। সেই দায় আমি নেব কেন?’’

Milk Vendor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy