কলকাতা হাইকোর্ট থেকে নিম্ন আদালত পর্যন্ত যে মামলার পাহাড় জমে গিয়েছে, বিধানসভায় তা স্বীকার করে নিলেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। মঙ্গলবার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন নিম্ন আদালতে প্রায় ২২ লক্ষ মামলার ফয়সালা হয়নি। তবে প্রায় ছ’লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। হাইকোর্টে জমেছে দু’লক্ষ ২২ হাজার। সব মিলিয়ে জমে থাকা মামলার সংখ্যা ২৪ লক্ষ ২২ হাজার।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি খবরের উল্লেখ করে কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, গত মে মাস পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৫৬ হাজারের মতো মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। কোর্ট অফিসার-সহ বিচারকের সংখ্যাও বেশ কম। বকেয়া মামলার দ্রুত শুনানি ও বিচার পর্ব শেষ করতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে?
অসিতবাবুর বক্তব্য কার্যত মেনে নিয়ে ওই তথ্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, উচ্চ আদালতে ৭২ জন বিচারপতি থাকার কথা। আছেন মাত্র ৩৪ জন। ১৪টি শূন্য পদে বিচারপতি নিয়োগের জন্য হাইকোর্টের প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু উত্তর আসেনি। বিচারপতি নিয়োগে রাজ্যের কোনও ভূমিকা থাকে না। রাজ্য শুধু সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়ে দেয় অনুমোদনের জন্য।
মলয়বাবু জানান, বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগে দেরি, সমন না-পাওয়া, সমন পেয়েও আদালতে হাজির না-হওয়া, অভিযুক্তকে গ্রেফতার, চার্জশিট, সাক্ষ্যগ্রহণ-সহ প্রতিটি কাজ আইন মেনে করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তবু বকেয়া মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে সরকার। জেলা স্তরে আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।