Advertisement
E-Paper

দিল্লি গেলেন নিহত ৪ বিজেপি কর্মীর পরিবার

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন। নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে পেরে তিনি সফর বাতিল করেছেন। 

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০১৯ ০২:৫৬
নিহত সন্তুর মা ও দিদি। নিজস্ব চিত্র

নিহত সন্তুর মা ও দিদি। নিজস্ব চিত্র

বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের পরিবারকে বিশেষ ভাবে নিমন্ত্রণ করে দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হল।

একে বিজেপি-র মোক্ষম রাজনৈতিক পরিকল্পনা বলে মনে করছেন অনেকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন। নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে পেরে তিনি সফর বাতিল করেছেন।

বিজেপির দাবি, পঞ্চায়েত ভোটে তাদের দলের ৪৬ জন খুন হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে। আর লোকসভা ভোটে খুন হয়েছেন পাঁচ জন। এই ৫১ জনের পরিবারকে ডাকা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে নদিয়া জেলার চারটি পরিবার রয়েছে। এর পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার টুইট করে জানিয়েছেন, এঁরা কেউ রাজনৈতিক কারণে খুন হননি। এঁদের মৃত্যুর কারণ অন্য। বিজেপি মিথ্যা দাবি করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এবং এর প্রতিবাদে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের আগেই ভীমপুরের এলাঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী হারাধন মৃধাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দিল্লিতে ডাক পেলেন তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। হারাধন মৃধার স্ত্রী সন্ধ্যাদেবী বলছেন, “পারলৌকিক কাজ শেষ না হওয়ায় আমি যেতে পারলাম না। তবে প্রধানমন্ত্রী আমার স্বামীর খুনের বিষয়টা মনে রেখেছেন জেনে মনটা কিছুটা হলেও শান্ত হল।”

একই ভাবে ডাক পেলেন ভীমপুরের কোরশোন গ্রামের নিহত বিজেপি কর্মী জয়দেব পান্তির পরিবার। পঞ্চায়েত ভোটের পরে তিনিও খুন হয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রেও অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দিল্লির গিয়েছেন জয়দেব পান্তির স্ত্রী ধন্যা পান্তি ও ভাইপো ক্ষেপাচাঁদ পান্তি। ধন্যাদেবী বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি মনে রেখেছেন। আশা করছি এ বার সুবিচার পাব।”

দিল্লিতে ডাক পেয়েছেন চাকদহ শহরের সন্তু ঘোষের পরিবারও। গত শুক্রবার রাতে খুন হন বছর তেইশের সন্তু। তাঁকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতারা। জানিয়েছিলেন, লোকসভা ভোটে বিজেপির হয়ে খাটার ‘অপরাধে’ তৃণমূল তাঁকে খুন করেছে। বাবা সাধু ঘোষ বলছেন, “সমস্ত খরচ বহন করছে দল। বিশ্বাসই করতে পারছি না যে, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা মনে রেখেছেন।” নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ডাক পেয়ে দিল্লি গেলেন শান্তিপুরের নিহত বিজেপি কর্মী বিপ্লব শিকদারের পরিবার। গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ২৪ মে শান্তিপুরের মেলের মাঠ এলাকায় নিজের বাড়িতেই খুন হয়ে যান বিজেপির বুথ সভাপতি বিপ্লব। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। তাঁর ছেলে সুফল বলেন, " দল যে আমাদের ভোলেনি দেখে ভাল লাগল।"

দিল্লিতে উপস্থিত থাকছেন লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে। থাকছেন জেলার দুই সভাপতিও। কল্যাণবাবুর কথায়, “প্রতিটা মৃত্যুই দুঃখজনক। নরেন্দ্র মোদী তাঁদের পরিবারকে ডেকে নিলেন। এটাই মানবিকতা।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy