E-Paper

তৃণমূল থাকবে না, মত সাংসদ সুখেন্দুর

আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলে দলের কোপে পড়েছিলেন সুখেন্দু। তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ০৯:৪৫
সুখেন্দুশেখর রায়।

সুখেন্দুশেখর রায়। — ফাইল চিত্র।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ বিরোধে টালমাটাল বাড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসে। এই অবস্থায় রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘‘১৫ বছরে তোলাবাজি, স্বেচ্ছাচার আর দুর্নীতির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এ রাজ্যে তৃণমূলের কোনও ভবিষ্যৎ আছে বলে হচ্ছে না!’’ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী ফল মানতে না-চাইলেও তিন বারের সাংসদ সুখেন্দুর মতে, ‘‘এই প্রত্যাখ্যান অনেকটা ২০১১ সালে সিপিএমের বিদায়ের মতোই। মানুষের এই অনাস্থা বদল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।’’

আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলে দলের কোপে পড়েছিলেন সুখেন্দু। তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়ায় ওই সময়েই চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান স্পষ্ট হয়েছিল। কিন্তু তা কেউ বুঝতে চাননি।’’ সে সময়ে বর্ষীয়ান সাংসদকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল কলকাতা পুলিশ। আইনজীবী সুখেন্দুশেখরকে পুলিশি তলবে সাড়া দিতে হয়নি ঠিকই কিন্তু দলের অন্দরে তাঁকে ‘কোণঠাসা’ করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘আসলে দলের অন্দরে ভাল বা মন্দ নিয়ে মতবিনিময়ের কোনও ব্যবস্থাই ছিল না। তার ফল যা হয়, তা-ই হয়েছে। অন্যায়, দুর্নীতি মাথা তুলেছে।’’ সরকার বদলের পরে মমতা ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ কথা বললেও সাংসদ মনে করেন, তা আপাতত অসম্ভব।

কলকাতা পুরসভাতেও তৃণমূলের যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, তাতে যুক্ত হয়েছেন পুরনো পুর-প্রতিনিধি তারক সিংহ। তাঁর দাবি, দল (তৃণমূল) কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। নেতৃত্বে বদল প্রয়োজন।

আরও এক পা এগিয়ে যাত্রাপথের ইঙ্গিত এ দিন আরও কিছুটা স্পষ্ট করেছেন বেসুরো থেকে বিদ্রোহী হয়ে ওঠা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ‘নারীবিদ্বেষী’ কিছু মন্তব্যের জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছে দলেরই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অভিযোগ জানিয়েছেন কাকলি। দলে দীর্ঘ দিনের সতীর্থের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বারাসতের সাংসদ। ফল প্রকাশের পরে বার দুয়েক নিজের ‘মনের কথা’ সামনে আনলেও বিশেষ গুরুত্ব পাননি তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। দলের মুখপাত্র পদ ছেড়ে নজরে এসেছেন তিনিও। পদ ছেড়েছেন আর এক মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দেবও। মিজোরামের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিতের মতে, ‘‘তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী-সাংসদেরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের অভিযোগ জানানোর সুযোগই ছিল না। তার পরে আর জি কর-কাণ্ড শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা সেই ঘটনার অভিঘাত বুঝতেই পারেননি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy