Advertisement
E-Paper

‘একসঙ্গে দুই সংস্থায় চাকরি কি সম্ভব’! স্পিকারের কাছে ২০ বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি অভিষেকদের

অভিষেক জানান, ১৪ জুন তিনি দেখা করতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন। ১৫ তারিখ তাঁকে ডাকেন স্পিকার। তিনি যেতে পারেননি, কারণ ওই দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডেকেছিল ইডি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ২০:৪২
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

একই সঙ্গে দু’টি সংস্থায় চাকরি করা কি সম্ভব! সেটা না হলে ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সদস্যপদ খারিজ করা হোক। শুক্রবার দিল্লিতে স্পিকারের কাছে গিয়ে সেই দাবিই জানালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, সংবিধানের দশম তফসিল অনুসারে, কোনও সাংসদ যদি নিজের ইচ্ছায় দলের সদস্যপদ ছাড়েন, তা হলে তাঁকে ‘ডিসকোয়ালিফাই’ করা যায় হাউস থেকে। ওই ২০ জন সাংসদকেও তা-ই করা হোক। অভিষেকের আরও দাবি, এনসিপিআইয়ের সঙ্গে ওই ২০ জন সাংসদের মিশে যাওয়ার বিষয়টিও অবৈধ।

শুক্রবার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সদস্যপদ বাতিল করার দাবি তোলেন তাঁরা। সংবিধানের দশম তফসিলের কথা উল্লেখ করেন। স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। সংবিধানের দশম তফসিল (২এ) অনুসারে, স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ছাড়লে (কোনও সাংসদ), ডিসকোয়ালিফাই করা যায় হাউস থেকে।’’ এর পরেই অভিষেক বলেন, ‘‘ওই সাংসদেরা অন্য দলে (এনসিপিআই) যোগ দিয়েছেন মানে তৃণমূলের সদস্যপদ ছেড়েছেন। একসঙ্গে দু’টি সংস্থায় চাকরি করা যায় না। তা হলে তাঁদের ডিসকোয়ালিফাই করা হোক।’’

অভিষেক যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘‘ওঁদের (২০ সাংসদের) দাবি, অন্য দলে মিশে গিয়েছি। সংবিধান অনুসারে, কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ যদি অন্য দলের সঙ্গে মিশে যায়, তখনই তা মার্জার সম্ভব।’’ তিনি এর পরে বিশদে বলেন, ‘‘ কোনও রাজনৈতিক দলের শুধু পরিষদীয় বা সংসদীয় দল অন্য দলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে না। সেই দলের যত পদাধিকারী রয়েছেন, তার দুই-তৃতীয়াংশ অন্য দলে মিশতে হবে। নয়তো যে সাংসদেরা অন্য দলে মিশেছেন, তাঁদের সদস্যপদ খারিজ করা হয়।’’ অভিষেকের দাবি, ২০ জন সাংসদ যে এনসিপিআই-তে মিশেছেন, তা ‘অবৈধ’। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ছ’-সাতটি নির্দেশের কথাও স্পিকারকে জানিয়েছেন বলে দাবি অভিষেকের।

এর পরেই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের চ্যালেঞ্জ ছোড়েন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘সাংসদপদ ছাড়ুন। এনসিপিআই-তে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের দাবি, দল নিয়ে খুশি নন তাঁরা। সততায় বিশ্বাস থাকলে পদ ছাড়ুন। ভোট হবে। বিজেপি, এনসিপিআই বা যার টিকিটে ইচ্ছা লড়ুন। জনতা স্থির করবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওঁরা (২০ সাংসদ) ইমান বেচেছে, সম্মান বেচেছে। বাংলার জনতা ক্ষমা করবে না। অনেকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেয়েছেন। সেই নিরাপত্তা নিয়ে নিজের কেন্দ্রে যান, একটা লোকও পাশে দাঁড়াবে না। ইডি সিবিআই থেকে বাঁচতে, কেউ বা আবার টাকা পেয়েছেন বলে করেছেন এ সব।’’ তার পরে অভিষেক বলেন, ‘‘কে সংবিধানের পক্ষে, কে বিরুদ্ধে, অধ্যক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। ২০ জন সাংসদ যে দাবি করেছে, সেপারেট ব্লক কিছু হয় না। ২০০৩ সালে সেপারেট ব্লক উঠে গিয়েছে। সংবিধান পড়ুন। সুপ্রিম কোর্টের এই ভূরি ভূরি জাজমেন্ট রয়েছে।’’

অভিষেক জানান, ১৪ জুন তিনি দেখা করতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন। ১৫ তারিখ তাঁকে ডাকেন স্পিকার। তিনি যেতে পারেননি, কারণ ওই দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। বাড়ি ফিরে দেখেছিলেন, স্পিকারের মেল এসেছে। ওই দিন দেখা করতে পারেননি। তবে তাঁর দফতরের সঙ্গে দ্রুত সময় চেয়ে যোগাযোগ করেন। তার পরেই শুক্রবার দিল্লিতে গিয়ে দেখা করেন তিনি।

জল্পনা সত্ত্বেও তৃণমূলে থেকে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেননি লোকসভার বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ। তাঁরা আশ্রয় নেন নতুন দল এনসিপিআই-এর। মনে করা হচ্ছে যে, বিধানসভায় পরিষদীয় দলের বিদ্রোহ-পরবর্তী পরিস্থিতি দেখে ‘সাবধানি’ হয়ে যান লোকসভার বিদ্রোহীরা। লোকসভায় ভাঙন ধরার আগেই তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে বিদ্রোহ প্রকট হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেন বিদ্রোহী বিধায়কেরা। তিনিই এখন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তৃণমূলের সিংহভাগ বিধায়কের সমর্থনও রয়েছে তাঁর প্রতি। কিন্তু তা নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত কেউ কী ভাবে বিরোধী দলনেতা হতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল। ওই মামলা এখনও বিচারাধীন। আইনি দিক বিবেচনা করেই বিদ্রোহী সাংসদেরা ‘ঝুঁকি’ এড়িয়ে গেলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy