E-Paper

রিপোর্ট চেয়ে পাল্টা ‘চাপ’ দিল নবান্ন

জেলা-কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, কারা প্রশাসনিক অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে এসআইআর-এর কাজ করছেন, তা বুঝতে চাইছে নবান্ন।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২১

—প্রতীকী চিত্র।

চলতি এসআইআর-এ জেলা প্রশাসনগুলির উপরে চাপ বজায় রেখেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার ফলে নিয়মিত নানা পদক্ষেপ এবং রিপোর্ট তৈরি করতে হচ্ছে। এ বার এসআইআর-এর দৈনিক খুঁটিনাটি তথ‍্য রিপোর্ট আকারে জেলা প্রশাসনগুলির কাছে চেয়েছে নবান্নও। আধিকারিকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ আদতে নবান্নের পাল্টা চাপ দেওয়ার কৌশল। সূত্রের খবর, ১২ দফা তথ্যের খোঁজখবরের পাশাপাশি ‘ভাল’ কাজ কে করছেন না, তা-ও জানতে চাইছে রাজ্যপ্রশাসন। অফিসারদের একাংশ বলছেন, কমিশন-নবান্নের দড়ি টানাটানির মধ্যে উলুখাগড়ারপ্রাণ যাচ্ছে।

বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের সূত্র বলছে, সম্প্রতি ১২ ধরনের তথ্য চেয়েছে নবান্নের শীর্ষ মহল। জানতে চাওয়া হয়েছে, এসআইআর-এর আগে জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা কত ছিল এবং এএসডিডি (অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল, মৃত এবং ডুপ্লিকেট) ভোটার হিসেবে কত নাম খসড়া ভোটার তালিকায় কাটা হয়েছে? এই এএসডিডি-র মধ্যে অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল এবং মৃত হিসেবে বাদ যাওয়া ভোটারদের পৃথক তথ্য-ও চাওয়া হয়েছে। এসআইআরশুরু থেকে এ পর্যন্ত কত জন ফর্ম-৬ বা নতুন নাম তোলার আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কত জন একেবারে নতুন ভোটার তা জানাতে হবে জেলাগুলিকে। ফর্ম-৮ বা সংশোধনের আবেদন সংক্রান্ত সবিস্তার তথ্য, তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির সংখ্যা, তাঁদের মধ্যে কত জনের শুনানি হয়েছে, কত জনের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা গিয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মোট আন-ম্যাপড ভোটারের সংখ্যা, তাঁদের মধ্যে কত জনের শুনানি হয়েছে এবং কত জনের অনুসন্ধান হয়েছে, তা-ও জানাতে হবে।

প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, যাঁদের নথি নেই এত দিন তাঁদের ইআরও-রা অনুসন্ধান করে শংসাপত্র দিতেন। অর্থাৎ, শংসাপত্র দিয়ে ইআরও জানাবেন, তিনি নিশ্চিত যে সেই ব্যক্তি যোগ্য। কমিশনের বিধিবদ্ধ ১৩টি নথির মধ্যে যাঁদের কাছে একটিও নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে এই শংসাপত্র তৈরির একটা চেষ্টা প্রশাসনের অন্দরে আছে। যদিও কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তেমন শংসাপত্রের উল্লেখ নেই। ঘটনাচক্রে, যাঁদের ১৩টির মধ্যে একটিও নথি নেই, তাঁদের নাম বাদ না-দেওয়ার অলিখিত নির্দেশ প্রশাসন দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অনুসন্ধান-শংসাপত্রের তথ্য সংগ্রহ তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কি না,তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

জেলা-কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, কারা প্রশাসনিক অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে এসআইআর-এর কাজ করছেন, তা বুঝতে চাইছে নবান্ন। তাই জেলা থেকে ‘ভাল’ কাজের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এই তথ্য তলবে অফিসারদের একাংশের মধ্যে দোলাচল তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, বিধির বাইরে কাজ করলে সরাসরি শাস্তি দিতে শুরু করেছে কমিশনও।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy