আবার রাজ্য পুলিশে রদবদল। শুক্রবারের পর শনিবার কলকাতা-সহ রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন পদে কর্মরত ২৭ জনের বদলির নির্দেশ জারি করল নবান্ন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার বদল। ঘটনাচক্রে, বেলডাঙার ঘটনার পর এই পুলিশ জেলার এসপি সানি রাজকে সরিয়ে দেওয়া হল। তার জায়গায় এসপি হিসাবে দায়িত্ব পেলেন ধৃতিমান সরকার। অতীতে তিনি ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলা কড়া হাতে সামলেছেন। যদিও নবান্ন সূত্রে বিষয়টিকে রুটিন বদলি বলে জানানো হয়েছে। অন্য দিকে, শনিবারই রাজ্য পুলিশের ডিজি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পীযূষ পাণ্ডে। কলকাতার সিপি হিসাবে কাজ শুরু করলেন সুপ্রতিমও।
মুর্শিদাবাদ ছাড়াও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ডিসি পদেও বদল হয়েছে। যুবভারতীতে মেসিকাণ্ডের পর সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হয়েছিল তৎকালীন ডিসি অনীশ সরকারকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্বে এলেন পুষ্পা। তিনি ছিলেন হাওড়া রেলপুলিশের এসপি (এসআরপি) পদে। এ ছাড়া শুক্রবার অমিত পি জাভালগিকে বর্ধমান রেঞ্জের আইজি করা হয়েছিল। শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তাঁকে বারাসত রেঞ্জের আইজি করা হচ্ছে। বারাসতের দায়িত্ব পাওয়া অলোক রাজোরিয়াকে পাঠানো হচ্ছে বর্ধমানে।
শুক্রবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার বদল করা হয়েছিল। মনোজ বর্মার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া সুপ্রতিম সরকারকে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পুলিশের একাধিক ডিসি-কেও বদল করা হল। ডিসি (দক্ষিণ) করা হয়েছে দীপক সরকারকে। ওই পদে থাকা প্রিয়ব্রত রায়কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বারাসতের এসপি করে। ডিসি (দক্ষিণ শহরতলি) বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তকে নিয়ে যাওয়া হল বনগাঁর এসপি করে। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে চারু শর্মাকে। ডিসি (পূর্ব) করা হয়েছে জসপ্রীত সিংহকে। বনগাঁর এসপি দীনেশ কুমারকে ডিসি (উত্তর) করা হয়েছে। ডিসি (পূর্ব শহরতলি) করা হল অমিত বর্মাকে।
এ ছাড়াও, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে বিশ্বচাঁদ ঠাকুরকে। বারাসতের এসপি পদে থাকা প্রতীক্ষা ঝারখরিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দার্জিলিঙের এসপি করে। জ্যোতির্ময় রায়কে বিধাননগর কমিশনারেটে ডিসি (নিউটাউন) করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শনিবার রাজ্য পুলিশের রদবদলে অন্যতম আলোচ্য নাম সানি রাজ। ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। ভিন্রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ গ্রামের বাড়ি ফিরতেই বিক্ষোভের আগুনে পুড়তে শুরু করে বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। পরের দিনও একই ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বেলডাঙায়। সেই মুর্শিদাবাদের এসপি সানি রাজ সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হল ধৃতিমানকে। তিনি এত দিন ছিলেন এসএস (আইবি)। সেই পদে পাঠানো হল সানি রাজকে। ঘটনাচক্রে, শনিবারই বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ।
সম্প্রতি, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার আগে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই দিন তাঁকেও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। প্রতীকের বাড়ির উপরে উঠতেও বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। যদিও ইডির পাল্টা অভিযোগের তালিকায় নাম ছিল প্রিয়ব্রতের নামও। ঘটনার কয়েক দিন পর সেই প্রিয়ব্রতকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল।