রবিবার রাতেই বহরমপুরের একটি বেসরকারি প্যাথোলজির ৬ জন কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অন্য প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরিগুলোতে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু ল্যাবরেটরি স্যানিটাইজ় করেছে। থার্মাল গান হাতে সংস্থার কর্মীকে দাঁড় করিয়ে ল্যাবরেটরিতে আসা সকলের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। একটু বেশি জ্বর হলেই সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি মাস্ক ছাড়া ল্যাবরেটরিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‘প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলেছি। রবিবার রাতে ল্যাবরেটরিতে কর্মীদের সংক্রমণ হতেই ফের সুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’’
বহরমপুর শহরের লালদিঘি লাগোয়া একটি ল্যাবরেটরিতে এক কর্মী মূল দরজার সামনে থার্মাল গান হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। লোকজন সেখানে এলেই শরীরের তাপ মাপার পরে ধীরে ধীরে ল্যাবরেটরির ভিতরে ঢোকানো হচ্ছে। লিফটের বোতাম থেকে দরজার হাতল ঘনঘন স্যানিটাইজ় করা হচ্ছে। ওই ল্যাবরেটরির অধিকর্তা অশেষকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই করোনা সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি। কর্মী থেকে শুরু করে এখানে আসা রোগীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই পরীক্ষা করা হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘ঢোকার মুখে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে, বেশি জ্বর থাকলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফিভার ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। দূরত্ব বিধি মানতে রোগীদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসতে দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত স্যানিটাইজ় করা হচ্ছে।’’বহরমপুরের লালদিঘি পাড়ের অপর এক প্যাথোলজি ল্যাবরেটরির মালিক প্রতুল চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই এখানে কাজ করছি। হাত ধুইয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাস্ক পরা, দূরত্ববিধি মানা সহ স্বাস্থ্য দফতরের সমস্ত নির্দেশিকা মেনেই কাজ হচ্ছে।’’ ডোমকলের এক প্যাথোলজির মালিক বকুল বিশ্বাসও একই কথা বলেন।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘করোনা রোগীর সংস্পর্শে কেউ এলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর্মী থেকে রোগী সকলকে করোনা সংক্রমণ রোধে যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বেরোতে হবে। এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। সচেতন হতে হবে।’’ তবে রোগীদের একাংশের বক্তব্য, করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে স্বাস্থ্যকর্তাদের টহলদারি করতে হবে।