E-Paper

পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা অর্থ মন্ত্রকের, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে সন্দেহ মুডিজ়ের

ইরান ও ওমানের মধ্যের সরু সমুদ্র প্রণালী হরমুজ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল সরবরাহ হয়। ভারতে আসে চাহিদার ৪০%। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে সেই প্রণালী বন্ধের কথা জানিয়েছে ইরান।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৬:৩৮

—প্রতীকী চিত্র।

বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দর ব্যারেলে ৯৪ ডলার ছুঁয়েছে। ডলারের সাপেক্ষে নামছে টাকার দামও। শুক্রবার এ নিয়ে সতর্ক করল অর্থ মন্ত্রক। ফেব্রুয়ারির মাসিক রিপোর্টে তাদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আরও বেশি দিন চললে বিশ্ব বাজারে তেল দামি হওয়ার জেরে টাকার দর আরও কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেশে জিনিসের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছেই। সেই সঙ্গে চওড়া হতে পারে চলতি খাতে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন ঘাটতি। একই আশঙ্কা প্রকাশ করে মূল্যায়ন সংস্থা মুডি’জ়ের মতে, এই অবস্থা বহাল থাকলে শক্ত হবে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

ইরান ও ওমানের মধ্যের সরু সমুদ্র প্রণালী হরমুজ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল সরবরাহ হয়। ভারতে আসে চাহিদার ৪০%। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে সেই প্রণালী বন্ধের কথা জানিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্ব বাজারে জোগান কমায় অশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। একই ঘটনা ঘটছে পশ্চিম এশিয়ায় তার উৎপাদন ধাক্কা খাওয়াতেও। তার উপর বেড়েছে জাহাজ ভাড়া এবং বিমার খরচ। ফলে জ্বালানি আনতে বেশি খরচ হচ্ছে। এক দিকে বিশ্ব বাজার থেকে অশোধিত তেল কিনতে ভারতের বেশি ডলার লাগছে। অন্য দিকে ভারতে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির টানা শেয়ার বিক্রি ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে টাকার সাপেক্ষে তার দামকে ঠেলে তুলছে। মন্ত্রকের মতে, আগামী দিনে এই সব কিছু ঠেলে তুলতে পারে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হারকে।

মুডি’জ়ের আবার সতর্কবার্তা, যুদ্ধ থামানো না গেলে অশোধিত তেল ১০০ ডলার ছোঁবে। ভারতীয় মুদ্রার ফের নতুন তলানিতে নামা অস্বাভাবিক নয়। তার উপর দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, জানুয়ারিতে আগের থেকে বেড়েছে। আগামী দিনে তা আরও বেশি হলে সুদ কমানোর সাহস পাবে না রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। যা আর্থিক অগ্রগতির জন্য জরুরি।

সংস্থাটির বক্তব্য, দেশ থেকে বেশি ডলার বেরিয়ে গেলে চড়তে পারে চলতি খাতে ঘাটতি। আমদানি খাতে বেশি খরচ হলে মাথা তুলবে বাণিজ্য ঘাটতি। সঙ্কট সামলাতে কেন্দ্রকে বেশিভর্তুকি দিতে হলে রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। তবে মন্ত্রকের দাবি, এখনও ভারতের বিদেশি মুদ্রা ভান্ডার যথেষ্ট পোক্ত, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে, চলতি খাতে ঘাটতিও কম। ফলে সমস্যা সামলাতে আপাতত অসুবিধা হবে না। কিন্তু যদি এই সঙ্কট চলতে থাকে, তা হলে এই তিন ক্ষেত্রেই বিপরীত প্রভাব দেখা যাবে। এতে ধাক্কা খাবে সার, পেট্রোরসায়নের মতো পেট্রোপণ্য নির্ভর ক্ষেত্রগুলি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

market price Price Hike US-Israel vs Iran West Asia Indian Economy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy