বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যর বাড়িতে বোমা মারার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী কৃষ্ণপদ রাহাকে গ্রেফতার করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুর থানার বেলগড়িয়া-২ পঞ্চায়েতের গবার চর এলাকায় সোমবার রাতে দলের পঞ্চায়েত সদস্য গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা হয়। গৌরাঙ্গ সে সময় পাশে অন্য বাড়িতে ছিলেন। তাঁর পরিবারের দাবি, রাতে ঘরে গৌরাঙ্গর মা, বাবা, বোন, ভাগ্নে সহ অন্যরা ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎবাড়ির দরজায় বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। ঘরের দরজা ভেঙে যায়। আহত হন গৌরাঙ্গর মা এবং এগারো বছরের ভাগ্নে। দু’জনকেই শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হামলার ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছে গৌরাঙ্গর পরিবার। পঞ্চায়েত ভোটে এই আসনে গৌরাঙ্গর বিরুদ্ধে যিনি প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূলের সেই কৃষ্ণপদ রাহা সহ অন্যদের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবারই কৃষ্ণপদ রাহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বোর্ডে এখানে কৃষ্ণপদর স্ত্রী তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। এবার কৃষ্ণপদ তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী গৌরাঙ্গর কাছে তিনি হেরে যান। যদিও বেলগড়িয়া-২ পঞ্চায়েতে এবারও ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। ১৯ টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে ১২টি। ৭ টিতে জিতেছে বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্ব এবং গৌরাঙ্গর পরিবারের অভিযোগ, ভোটে হারার আক্রোশেই এই হামলা। গৌরাঙ্গর স্ত্রী অনিতা বিশ্বাস বলেন, "রাতে বাড়ির সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। আচমকা বোমা ছোড়ে তৃণমূলের লোকজন। আমার শাশুড়ি এবং ভাগ্নে আহত হয়েছে। আমার স্বামী বিজেপির সদস্য, এটাই আমাদের দোষ। সেই আক্রোশে আগেও তৃণমূলের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করেছে। তারপর ফের এদিন। আমরা আতঙ্কে রয়েছি।"
শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিজেপির চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, "অনেক জায়গাতেই হারের আক্রোশ মেটাতে তৃণমূল সন্ত্রাস করছে। গবার চর এলাকায় আগেও আমাদের কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শান্তিপুর থানার পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে।"
রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, "সব রকমের অপরাধমূলক কাজ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিনের ঘটনায় একজন গ্রেফতার হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরাও দ্রুত গ্রেফতার হবে।"
শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, "আইন আইনের পথে চলবে। আমাদের দল এই ধরনের কোনও কাজকে প্রশ্রয় দেয় না।"
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)