E-Paper

নাম বাদ গেলেও ডিউটি-তে কামাই নেই

গ্রামেরই স্কুলের ভোট কেন্দ্রে তাঁকে স্বাস্থ্যকর্মীর দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২২
আবিদা খাতুন বিবি।

আবিদা খাতুন বিবি। নিজস্ব চিত্র।

তাঁর চোখের সামনে দিয়ে একের পর এক গ্রামবাসী ভোট দিতে ঢুকছেন বুথের ভিতরে। আর অসহায় চোখে সে দিকে তাকিয়ে বছর পঞ্চান্নের ভোটকর্মী। শুধু তা-ই নয়, তাঁকেই ভোটের ‘ডিউটি’ করতে হচ্ছে। ভোটারদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে ওআরএস-এর প্যাকেট। শুকনো হাসির রেখা টেনে বলছেন, “ভোট দিতে গিয়ে শরীর খারাপ করলে আমায় বলবেন।”

তিনি আবিদা খাতুন বিবি। খাজুরি গ্রামের আশাকর্মী। গ্রামেরই স্কুলের ভোট কেন্দ্রে তাঁকে স্বাস্থ্যকর্মীর দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আবার এই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানেই ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ ভোটার হিসেবে নাম বাদ গিয়েছে তাঁর। ১৯৯২ সালে তাঁর প্রথম ভোটার তালিকায় নাম উঠেছিল। তার পর থেকে প্রত্যেক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এ বারই প্রথম ভোট দেওয়া হল না। বুথের দিকে উদাস চোখে তাকিয়ে থাকেন আবিদা। বলেন, “মনটা বড্ড খারাপ লাগছে। সবাই ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছে, আর আমায় সেটা দেখতে হচ্ছে। বাকি যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা বাড়িতে আছেন। অন্যদের ভোট দেওয়া দেখতে হচ্ছে না।”

সঙ্গে মনের ভিতরে চাপা আতঙ্ক। জানতে চান, “এর চেয়েও বড় কোনও বিপদ অপেক্ষা করে নেই তো?”

খসরা তালিকা থেকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে নাম বাদ গিয়েছিল চুপিপোতা গ্রামের বাসিন্দা হাসোরা বিবি ও তাঁর দেওর জাপেল শেখের। দু’জনের নামই বাতিলের খাতায় থেকে যায়। ট্রাইবুনালে আবেদনের পরে ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত শেষ সংশোধনী তালিকায় হাসোরার নাম উঠলেও দেওরের নাম ঝুলে থাকে। হাসোরা বিবি বলেন, “আমার দেওরের নাম উঠল না। খারাপ তো লাগছেই।” আর জাপেল শেখ বলেন, “আমারটা কী কারণে আটকে গেল, বুঝতে পারছি না।” যেমনটা বুঝছেন না জেলার প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ। ভোটের দিনে তাঁদের সকলের মনের অবস্থা একই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Krishnanagar Asha Workers

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy