কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে আরও এক ধাপ এগোচ্ছে তাহেরপুর পুরসভা। এত দিন শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ করে জৈব সার উৎপাদনের কাজ চললেও, এ বার সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। পুরসভা সূত্রের দাবি, নতুন এই প্রযুক্তির সাহায্যে অল্প সময়েআরও বেশি পরিমাণ সার উৎপাদন সম্ভব হবে।
মোট ১৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত তাহেরপুর শহর থেকে প্রতি দিন গড়ে প্রায় সাড়ে ছয় টন কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ হয়। পুরসভার নিজস্ব গাড়ির মাধ্যমে সেই বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হয় ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। সেখানে প্রথমে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা হয়। পচনশীল অংশ শুকিয়ে বিশালাকার চালুনির মাধ্যমে ছেঁকে নেওয়া হয়। এর পর তেঁতুল জল, দই-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে ফের শুকোনোর জন্য রাখা হয়। সবশেষে তা গুঁড়ো করে তৈরি হয় জৈব সার। পুরসভার তরফে এই সারেরনামকরণ করা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা’। ইতিমধ্যেই বাজারে এই জৈব সার বিক্রিও শুরু হয়েছে।
তবে এত দিনের এই পদ্ধতিতে সার উৎপাদনে সময় লাগত তুলনামূলক বেশি। সেই কারণেই রাজ্যের নগরোন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাহেরপুর পুরসভাকে এক কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র দেওয়া হচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যন্ত্রের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় সাত টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। ফলে উৎপাদনের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই সময়ও সাশ্রয় হবে।
পুরকর্তাদের দাবি, নতুন এই যন্ত্রের মাধ্যমে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সময় দুর্গন্ধ ছড়াবে না এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি প্রায় স্বয়ংক্রিয় ভাবে সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যেই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যন্ত্র বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী মাসের মধ্যেই যন্ত্রটি পুরোপুরি চালু হবে বলে আশাবাদী পুরসভা। তাহেরপুরের পুরপ্রধান উত্তমানন্দ দাস বলেন, “স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তরফে আমাদের একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র দেওয়া হচ্ছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যন্ত্রটি এলে আমাদের কাজের গতি অনেকটাই বাড়বে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)