E-Paper

সময়ে বেতন দিতে পারল না পুরসভা

পুরপ্রধান কর্মচারীদের ওয়টস্যাপ গ্রুপে তিন দিনের মধ্যে বেতন মেটানোর আশ্বাস এবং বিকল্প চাকরি খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:১২
বহরমপুর পৌরসভা।

বহরমপুর পৌরসভা। — নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব তহবিলের ভাঁড়ার শূন্য। যার জেরে অস্থায়ী কর্মীদের একাংশকে সময় মতো বেতন দিতে পারল না বহরমপুর পুরসভা। তবে পুরপ্রধান তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় কর্মচারীদের আশ্বাস দিয়েছেন ঋণ নিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁদের এ মাসের বেতন মিটিয়ে দেবেন। তবে পুরভার অস্থায়ী কর্মচারীদের বিকল্প চাকরি খোঁজার পরামর্শও দিয়েছেন পুরপ্রধান। তাঁর দাবি, ‘‘বহরমপুর পুরসভার প্রায় ৩ হাজার কর্মচারী রয়েছেন। তার মধ্যে প্রায় ২৬০০ অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। এই অস্থায়ী কর্মচারীদের পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে বেতন দেওয়া হয়। কিন্তু ভোটের পর থেকে নিজস্ব তহবিল সংগ্রহে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার জেরে বেতন দিতে সমস্যা হয়েছে।’’

পুরপ্রধান কর্মচারীদের ওয়টস্যাপ গ্রুপে তিন দিনের মধ্যে বেতন মেটানোর আশ্বাস এবং বিকল্প চাকরি খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন। বেতন দিতে কেন সমস্যা হচ্ছে সে কথাও পুরপ্রধান তুলে ধরেছেন। যা নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে বহরমপুরে। তবে পুরপ্রধানের দাবি, এই সমস্যা শুধু বহরমপুরে নয়, সারা রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় এমন ৭৬ হাজার অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছে। অন্য পুরসভায় বেতন দিতে সমস্যা হলেও এই প্রথম আমাদের সমস্যা হল।

নাড়ুগোপালের দাবি, ‘‘ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে বিজেপির বিধায়ক পুরসভাকে সহযোগিতা করলেও কংগ্রেস রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। যার জেরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিয়ে আমি নিজেই ঠিক মতো অফিস করতে পারছি না। কর্মচারীদেরও সমস্যা হচ্ছে। ফলে পুরসভার নিজস্ব তহবিল সংগ্রহে সমস্যা হয়েছে। তাই বেতন দিতে সমস্যা হয়েছে।’’

পুরপ্রধানের অভিযোগ উড়িয়ে বহরমপুর পুরসভার বিরোধী দলনেতা হিরু হালদার বলেন, ‘‘পুরসভায় দুর্নীতি হয়েছে, দুজন মহিলা কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে বেতন বন্ধ রেখেছে, ভোটে অত্যাচার করেছে, স্বজনপোষণ করেছে। তাই এসবের প্রতিবাদ করে দুর্নীতির তদন্তের দাবি করেছি। এগুলি বলা যদি অস্থিরতা তৈরি করা হয় আবারও বলব।’’

সূত্রের খবর ২৬০০ অস্থায়ী কর্মীর মধ্যে ১১০০ কর্মীর বেতন এখনও দিতে পারেনি বহরমপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষ। নাড়ুগোপাল বলেন, ‘‘২৬০০ জনের মধ্যে আমাদের বোর্ডের আমলে ৪০০ অস্থায়ী কর্মচারী নিতে হয়েছে। আগের থেকে জনসংখ্যা বেড়েছে। পরিষেবা বেড়েছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘এই সব কর্মচারীদের বেতন দিতে মাসে প্রায় তিন কোটি টাকা লাগে। সেই টাকা বিভিন্ন কর, টোল থেকে আসত। কিন্তু ভোটের পর থেকে এসব আয়ের উৎস ক্রমে কমেছে। যার জেরে সমস্যা তৈরি হয়েছে।’’
তাঁর দাবি, ‘‘ঋণ করে তাঁদের বেতন মেটানোর আশ্বাস দিয়েছি। তবে এভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে না। সে কারণে যাঁরা যোগ্য তাঁদের বিকল্প কাজের সন্ধান করার জন্য বলেছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Berhampore Salary issues

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy