×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

তৃণমূলে গিয়েই ফেরত বিজেপির উপপ্রধান

নিজস্ব সংবাদদাতা
নবদ্বীপ ১১ জুন ২০২১ ০৪:৪৪
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

রাতারাতি ভোলবদল!

বুধবার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে রাত কাটতে না কাটতেই আবার বিজেপিতে ফিরলেন নবদ্বীপ ব্লকের মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মদনমোহন দফাদার। বৃহস্পতিবার নবদ্বীপের বিডিও-কে এক লিখিত আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, প্ররোচনার ফাঁদে পা দিয়ে তিনি প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন। নিজের ভুল বুঝে তিনি অনুতপ্ত। প্রধানের উপরে তাঁর সম্পূর্ণ আস্থা আছে। বিডিও বরুণাশিস সরকার বলেন, “তৃণমূলের আনা অনাস্থা প্রস্তাব থেকে নিজের স্বাক্ষর প্রত্যাহার করার জন্য উনি আবেদন জানিয়েছেন।”

১৯ সদস্যের ওই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ন’জন আছেন। বিজেপি, সিপিএম এবং নির্দলের মিলিত ১০ সদস্য মিলিজুলি বোর্ড গড়ে পঞ্চায়েত পরিচালনা করছে। প্রধান নির্দল সদস্য, উপপ্রধান বিজেপির। এক জন শিবির বদল করলেই বোর্ড তৃণমূলের হাতে চলে আসবে। বুধবার ঘোষণা করে দলবদল করেন মদনমোহন। তা হলে আবার প্রত্যাবর্তন কেন? মদনমোহনের দাবি, “ভুল করে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থায় সই করেছিলাম। তার জন্য কেউ আমায় কোনও চাপ দেয়নি। পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্যে আছি। তাতে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। সেই জন্য একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আবেদন করলাম।”

Advertisement

এ দিন নবদ্বীপ বিডিও অফিসে অনাস্থায় সাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন করতে বুধবারের মতোই সদলবলে আসেন মদনমোহন। তাঁর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ওই পঞ্চায়েতের প্রধান পবিত্রা নন্দী। তিনিও বলেন, “উনি ভুলবশত ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আসলে শাসকদল প্রথম থেকেই বিরোধী পঞ্চায়েত হিসাবে আমাদের বোর্ড চালাতে নানা অসুবিধার সৃষ্টি করছে। কাজ করতে দিচ্ছে না। আমরা পঞ্চায়েত সমিতির কাছ থেকে কিছুই পাই না। তবে তা সত্ত্বেও গত তিন বছরে আমরা যে ভাবে একত্রে ছিলাম আগামী দু’বছরও একই ভাবে থাকব। কোনও সমস্যা নেই আমাদের মধ্যে।”

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের নবদ্বীপ ব্লক সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, “আমরা দল ভাঙানোর রাজনীতি করি না। উনি গত এক মাস ধরে উনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। নিজেই অনাস্থার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। বলেছিলেন, ওই অঞ্চলের জনগণ উন্নয়নের সুবিধা পাচ্ছেন না বিজেপি, সিপিএম ও নির্দলের মধ্যে মতপার্থক্যের জন্য। তাই মানুষের কথা ভেবে আমরা ওঁর প্রস্তাব সমর্থন করেছিলাম। উনি আবেদন প্রত্যাহার করলে আমাদের অসুবিধা নেই।” বিজেপির নদিয়া উত্তর জেলার সহ-সভাপতি গৌতম পাল অবশ্য দাবি করেন, “উনি শাসকদলের ফাঁদে পড়ছিলেন। দ্রুত ভুল বুঝে সরে এসেছেন।”



Tags:

Advertisement