ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার আইসিইউ থেকে বার করে তাঁকে রাখা হয়েছে কেবিনে। অনেক বছর পরে ছবি পরিচালনায় ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি? আনন্দবাজার ডট কম-কে তাঁর স্ত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “১২ দিনের শুটিং ছিল। ৯ দিনে শেষ করেছে অগ্নি। প্রচণ্ড চাপ নিয়ে ফেলেছে। খুব ধকল গিয়েছে ওর। তার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
মাঝে দীর্ঘ বিরতি। অনেক বছর পরে ‘চোর’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনার দুনিয়ায় ফিরেছেন অগ্নিদেব। ছবির নায়ক জীতু কমল ছোটপর্দাতেও সমানতালে অভিনয় করছেন। সব দিক বিবেচনা করেই অগ্নিদেব ১২ দিনের শুটিং ৯ দিনে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলাফল যে এমন দাঁড়াবে তিনিও বুঝতে পারেননি। সুদীপার কথায়, “চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দু’বার ব্রেন স্ট্রোকের পরেও যে অগ্নিদেব নিজেকে সামলে নিতে পেরেছেন, সেটাই অনেক বড় পাওনা।” মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে অগ্নিদেবের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। ওঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, এখন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন পরিচালক। হাত-পায়ের অসাড় ভাব অনেকটাই কমেছে। নিজে উঠে দাঁড়াতেও পারছেন। তবে চলাফেরা এখনও স্বাভাবিক হয়নি বলে জানান তিনি।
শনিবার রাতে সচকিত টলিউড। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। গুরুতর অসুস্থ তিনি। প্রথম সারির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। সেই সময়েই সুদীপা জানিয়েছিলেন, অগ্নিদেব প্রায়ই মাইগ্রেনের ব্যথায় কষ্ট পান। ফলে, চট্টোপাধ্যায় পরিবার ‘ব্রেন স্ট্রোক’-এর কথা মাথাতেই আনেনি। সুদীপার কথায়, “তার পর দেখি শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাচ্ছে অগ্নির। ওকে সামলাতে পারছি না। চোখে দেখতেও পাচ্ছিল না। তখন বুঝতে পারি বড় কিছু ঘটে গিয়েছে। এটা মাইগ্রেনের ব্যথা নয়।” হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরে জানতে পারেন, পরপর দুটো ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে পরিচালকের।
অগ্নিদেব পরিচালিত ‘চোর’ ছবির কাজ কতটা বাকি? সুদীপা এই ছবির সংলাপ লিখেছেন। তিনি বললেন, “তড়িঘড়ি করেছিলেন বলেই শুটিং শেষ। সম্পাদনার কাজও অনেকটাই শেষ। ডাবিংয়ের কাজ বাকি। আর বাকি একটি গান রেকর্ডিং। এই গানের সুরকার ‘বাহুবলী’, ‘আরআরআর’-খ্যাত এমএম কীরবানী। গাইবেন বাবুল সুপ্রিয়। ৮ এপ্রিল মুম্বইয়ের যশরাজ স্টুডিয়োয় গান রেকর্ডিংয়ের কথা। অগ্নিদেব ওর বড় ছেলে আকাশকে দায়িত্ব নিয়ে গান রেকর্ডিংয়ের জন্য বলছে। দেখা যাক কী হয়।” প্রসঙ্গত বাবার ছবি দিয়ে প্রযোজনা পা রাখছেন আকাশ চট্টোপাধ্যায়।