একদিকে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোক। অন্য দিকে, আচমকা অসুস্থ স্বামী দীপঙ্কর রায়। অহনা দত্ত যেন দিশাহারা। রবিবার অনেক রাতে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে স্বামীকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। সোমবার আনন্দবাজার ডট কম-কে অহনা জানিয়েছেন, অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম হয়েছে দীপঙ্করের। আরও কিছু পরীক্ষার রিপোর্ট আসা বাকি। সে সব দেখে চিকিৎসকেরা পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন।
অহনার কথায়, “চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেই আপাতত বাড়িতে নিয়ে এসেছি দীপঙ্করকে। বাড়ি থেকেই চিকিৎসা চলবে। পর্যবেক্ষণে থাকবে।”
হঠাৎ কী করে এত অসুস্থ হয়ে পড়লেন দীপঙ্কর? ওঁর কি আগে থেকেই শারীরিক অসুস্থতা ছিল? অহনা জানিয়েছেন, কোনও অসুস্থতাই ছিল তাঁর স্বামীর। অভিনেত্রী বলেছেন, “কখনও ওষুধ খেতে দেখিনি। শরীর খারাপের জন্য বিছানায় পড়ে থাকতেও দেখিনি। ফলে, বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
৩ এপ্রিল ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’র শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন অহনা। কাজের শেষে বাড়ি ফিরে দেখেন দীপঙ্করের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে! বাড়িতে অহনার শ্বশুরমশাই, একরত্তি কন্যা মীরা আর তাকে দেখভাল করার জন্য একজন সহায়িকা ছাড়া আর কেউ নেই। ছেলেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে অহনার শ্বশুরমশাই একাই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান দীপঙ্করকে। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, রক্তে শর্করার মাত্রা প্রচণ্ড কমে গিয়েছে। হৃদস্পন্দন অনিয়মিত। বেড়ে গিয়েছে রক্তচাপ।
প্রাথমিক চিকিৎসার পরে অহনা স্বামীকে নিয়ে যান অন্য আর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম হয় দীপঙ্করের। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে ভয় এখনও কাটেনি, অহনাকে এমনই জানিয়েছেন চিকিৎসক। “একা হাতে সব সামলাতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছি। রাহুলদা এ ভাবে চলে গেল! ওর জন্য শোক জানিয়ে উঠতে পারিনি। যোগ দিতে পারিনি পদযাত্রাতেও।”