গত ৪ মে ফলতা বাদে রাজ্যের ২৯৩ আসনে ভোটগণনা হয়। সেখানে ২০৭ আসনে বিপুল জয় পায় বিজেপি। এ বার বিধায়কসংখ্যা ২০৮-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ফলতা নিয়ে তৎপরতা বাড়াল তারা। মঙ্গলবার প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বিধাননগরের পার্টি অফিসে এই সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মূলত ফলতা বিধানসভা নিয়েই আলোচনা করেন তিনি। আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫ ভোটকেন্দ্রে আবার ভোটগ্রহণ হবে। আর ভোটগণনা হবে ২৪ মে।
বিজেপি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার আসন্ন ফলতা বিধানসভা নির্বাচন নিয়েই মূলত বৈঠক হয়েছে। তার রণকৌশল এবং প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী-সহ উপস্থিত ছিলেন, রাজ্য বিজেপির তিন জন সাধারণ সম্পাদক— জ্যোতির্ময় মাহাতো, সৌমিত্র খাঁ এবং শশী অগ্নিহোত্রী। ছিলেন রাজ্য বিজেপির সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই, ইংরেজ বাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার দিনভর ঠাসা কর্মসূচি ছিল শুভেন্দুর। এ দিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণ ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে গুয়াহাটির খানাপাড়ায় পশুচিকিৎসা কলেজের মাঠে শপথগ্রহণ করেন হিমন্ত। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর গুয়াহাটি থেকে বিকেলের আগেই কলকাতায় পৌঁছোন শুভেন্দু। তার পর সোজা চলে যান পশ্চিমবঙ্গের লোক ভবনে। সেখানে ছিল বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার পদে তাপস রায়ের শপথগ্রহণ। এ ছাড়াও একাধিক সরকারি কাজ ছিল। রাজ্যে সদ্য নতুন সরকার গঠন হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি দফতর বন্টনও হয়নি। মাত্র পাঁচ জন মন্ত্রীকে দফতর দেওয়া হয়েছে। বাকি পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে এখন অনেকগুলি দফতরের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। সেই সমস্ত কাজ সেরে তিনি সন্ধ্যা নাগাদ বিধাননগরের বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে চলে যান। সেখানে প্রায় ঘন্টা দুয়েক ছিলেন।
গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দু’দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়। দ্বিতীয় দফা ভোটের শুরু থেকেই উত্তপ্ত ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। পুলিশ পর্যবেক্ষক বনাম তৃণমূল প্রার্থীর ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ দেখা যায় সেখানে। ভোটের দিনেও দিনভর খবরের শিরোনামে ছিল ফলতা। ওই কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে ‘টেপ’ লাগানো হয়। শুধু ওই দুই বুথ নয়, আরও কয়েকটি বুথ থেকেও নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। বিরোধীরা ফলতার ৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন। সেই সময় ওই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশমতো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দিল্লিতে প্রস্তাব পাঠান বিশেষ পর্যবেক্ষক। এর পর গত ২ মে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কমিশন।