ছিল বন্দুক, হয়ে গেল পেনসিল।
বন্দুককে হারিয়ে পেনসিল হাতে খুদের সে কী রংবাজি! পিচকারির বাজারে এতদিন একাই একশো ছিল বন্দুক-পিচকারির। আর সব পিচকারিকে সে একাই পিছনে ফেলে দিয়েছিল। দোলের দিন হাতে হাতে ঘুরত সেই বন্দুক। যেন কত সেনা চলেছে সমরে।
ছবিটা এ বার অনেকটাই বদলে গিয়েছে। কৃষ্ণনগর পোস্টঅফিসের মোড়ে রং, পিচকারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন নরেন রায়। তিনি জানাচ্ছেন, বেশ কয়েক বছর পর এ বার বাজারে এসেছে এক ঝাঁক নতুন পিচকারি। তরোয়াল আর পেনসিল তাদের মধ্যে অন্যতম। দামও ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। সঙ্গে এসেছে ডাইনোসর পিচকারি। ছোটা ভীমের আঙুল দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটে যাচ্ছে রং, এমন পিচকারিও মিলছে একশো টাকার মধ্যেই। বন্দুক পিচকারিও বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদা একটু কমেছে।
পিচকারির তুলনায় রংয়ের বাজারে তেমন নতুন কিছু নেই। ভাল কোম্পানির একশো গ্রাম রং ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিকোচ্ছে। তবে ভেষজ রংয়ের দাম একটু চড়া। একশো গ্রাম প্যাকেটের দাম ৫০-৬০ টাকা। নবদ্বীপের পাইকারি বিক্রেতা নন্দ রায় বলছেন, ‘‘দশ টাকা থেকে চল্লিশ টাকা পর্যন্ত দামের রংয়ের শিশি বিক্রি হচ্ছে। এসব রং ক্ষতিকর নয়। দোলের জন্যই তৈরি।’’
ফাগুনে রঙিন হয়ে উঠেছে বহরমপুরও। পাড়ার মোড়ে মোড়ে রঙের পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ আবার কোনও দোকানের সামনে ফুটপাথের একচিলতে জায়গায় টেবিল পেতে শুরু করেছেন বিকিকিনি। দোলের আগে ধুম পড়েছে রং ও পিচকারি কেনার। খুদেরা এসে নিজেদের পছন্দ মতো পিচকারি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বড়রাও পছন্দ করছেন বাহারি রং। বহরমপুর কান্দি বাসস্ট্যান্ড বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী গোপাল দাস জানান, বন্দুক পিচকারির চাহিদা এ বারেও বেশ ভাল।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ত্বক বিশেষজ্ঞ ধ্যানতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ভেষজ আবীর ব্যবহার করলে ত্বকের উপরে প্রভাব পড়ে কম। তাতে রাসায়নিক কিছু থাকে না বললেই চলে। রং খেলার সময়ে যদি চুলকোয় বা ত্বক লাল হয়ে যায়, তাহলে ঠাণ্ডা জলে জায়গাটি ধুয়ে রং তোলা উচিত। তেমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’’