বছর পঁচাত্তরের নজ়র আলি বসে ছিলেন বাড়ির সামনে এক দোকানের বেঞ্চে। বাঘডাঙা এলাকায় তেমাথার মোড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা দাঁড়িয়ে তখন আখের রস খাচ্ছেন। তাঁদের দিকে আঙুল দেখিয়ে বৃদ্ধ বললেন, “এই রকম টহলদারি দরকার। এঁরা ছিলেন বলেই শেষ বয়সে এসে এমন অন্যরকম ভোট দেখতে পেলাম ডোমকলে।’’ শুধু নজ়র আলিই নন, এ বারের ভোট নিয়ে ডোমকল জুড়ে একই কথার অনুরণন শোনা গিয়েছে। সকলেই বলছেন, এমন ভোট তাঁরা বহু বছর দেখেননি। অধিকাংশ ভোটারই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
ভোট মানেই ডোমকলে বোমাবাজি, রক্ত, প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। এত দিন এই ছিল দস্তুর। তবে এ বারের ভোট সেই দুর্নাম ঘুচিয়েছে। নওদায় বিক্ষিপ্ত গোলমাল ছাড়া জেলার কোথাও অশান্তি হয়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে কটু-কথা, বচসা বা চোখ রাঙাতেও দেখা যায়নি কাউকে। ডোমকলের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “যদি প্রত্যেকটা নির্বাচন এ ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে হত, পুলিশ প্রশাসনকে খোলা হাতে শাসন করার দায়িত্ব দেওয়া হত, পতাকার রং না দেখে তাঁরা যদি সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে দারুণ হত।’’
ডোমকলের তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীর বলেন, “এক সময় এই জেলায় পুলিশ আধিকারিক হিসেবে ছিলাম। সেই সময়েও ডোমকলে নির্বিঘ্নে ভোট করাতে চেয়েছি। এ বার প্রার্থী হিসেবেও একই দাবি ছিল। কর্মীদের বার বার বলেছি, রক্ত নয়, ঘাম ঝরান। মানুষের দুয়ারে যান। আমি আনন্দিত ডোমকলে এমন শান্তিপূর্ণ ভোট দেখে।” সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানও এ বারের ভোটে খুশি। তাঁর কথায়, “আমরা সব সময় চাই মানুষ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুক নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে। এ বারের নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা দারুণ ছিল।”
গোটা ভোটপর্বে এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এসডিপিও, ডোমকল শুভম বজাজ। ভোটের দিন মহকুমার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের কর্তব্য পালন করেছি। রক্তপাতহীন ভোট তো সকলেই চান।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)