Advertisement
E-Paper

করোনার ভয়ে হাল ফিরছে সদর হাসপাতালেরও

লালগোলার রাজা যোগেন্দ্র নারায়ণ রাওয়ের দান করা জমিতেই গড়ে উঠেছিল এই সদর হাসপাতাল।

বিদ্যুৎ মৈত্র

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২০ ০২:২৬
সদর হাসপাতালের অবস্থা দেখছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।  নিজস্ব চিত্র

সদর হাসপাতালের অবস্থা দেখছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।  নিজস্ব চিত্র

বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় নতুন করে প্রাণ পেয়েছে জেলার প্রাথমিক ও ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পরে জেলা স্বাস্থ্যকর্তাদের ভরসা ফিরিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বহরমপুর সদর হাসপাতাল। খাতায় কলমে যা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাস।

লালগোলার রাজা যোগেন্দ্র নারায়ণ রাওয়ের দান করা জমিতেই গড়ে উঠেছিল এই সদর হাসপাতাল। মূল হাসপাতালের সঙ্গে মেডিসিন ও শিশুবিভাগ এবং পশ্চিম দিকে যক্ষা বিভাগ, একটু এগিয়ে গিয়ে আইসোলেশন বিভাগ, তার থেকে আর একটু এগিয়ে গিয়ে মাতৃসদন সহ একাধিক বিভাগ ছিল এই হাসপাতালের অধীন। আর বহরমপুর স্টেশন সংলগ্ন স্বর্ণময়ী বাজারের কাছে তৎকালীন নিউ জেনারেল হাসপাতালে চলত অস্থি, চক্ষু ও শল্য চিকিৎসা। দূরত্ব থাকলেও ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত বহরমপুরের দুই প্রান্তের এই দুই হাসপাতালের মধ্যে চিকিৎসক, রোগী, অ্যাম্বুল্যান্সের আনাগোনায় রাত দিন ব্যস্ত থাকত কাদাই চত্বর। জেলার অন্য প্রান্তের মানুষজনের পাশাপাশি পড়শি জেলা বীরভূম ও নদিয়ার কিছু এলাকার মানুষের কাছে নিকটবর্তী হাসপাতাল ছিল এটাই। এই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে বহু মানুষজনের জীবিকা নির্বাহ হত। দুই হাসপাতালের দূরত্ব ঘোচাতে এক ছাদের তলায় হাসপাতালের সব বিভাগগুলিকে আনতে ২০০০ সালে তৎকালীন সরকার উদ্যোগ নিলেও মানুষের দাবিতে তা সম্ভব হয়নি। পরে ২০১৬ সালে পরিবর্তনের জমানায় সদর হাসপাতালের সব বিভাগগুলিকে এক এক করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এরপর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে প্রাচীন এই জেলা সদর হাসপাতাল। এই হাসপাতালকে বাঁচিয়ে তুলতে তৈরি হয়েছিল সদর হাসপাতাল বাঁচাও কমিটি। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কর্মাসও। সেই সময় এই হাসপাতালকে বাঁচাতে ওই কমিটির সদস্যরা দরবার করেছিলেন সরকারি বিভিন্ন দফতরে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাতের অন্ধকারে এখানেই চলত অসামাজিক কাজকর্ম বলে অভিযোগ মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কর্মাসের যুগ্মসম্পাদক কল্যাণ সাহার। পরিবর্তনের পর বহরমপুর পুরসভাও এই সদর হাসপাতালকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। প্রাক্তন পুরপ্রধান নীলরতন আঢ্য জানালেন, “পুরসভার আর চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি বহু পরিচিত এই হাসপাতালকে আর একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুমতি এসে গিয়েও থমকে গিয়েছে।” তার কারণ অবশ্য জানেন না বলেই দাবি তাঁর।

কিন্তু লকডাউনের সময় সদর হাসপাতালে একশো শয্যার আইসোলেশন বিভাগ ও পরে পরিত্যক্ত ‘মাতৃসদন’ জেলার কোভিড হাসপাতাল হিসাবে বর্তমানে পরিচিতি পেয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা বিভাগকে সারিয়ে তোলা হচ্ছে। অল্প সময়ের জন্য হলেও হাসি ফুটেছে এলাকার ব্যবসায়ীদেরও। সদর হাসপাতাল বাঁচাও কমিটির সদস্য কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের দাবি যে যুক্তিসঙ্গত ছিল তা তো দেখা যাচ্ছে।’’

Berhampore Hospital Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy