কল্পনা করুন, আপনি যোগাসন বা পিলাটিজ়ের মতো ব্যায়াম করছেন, কিন্তু অস্বস্তির কারণে বার বার পোশাক ঠিক করতে হচ্ছে। আর তত বারই মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে আর সঠিক ভঙ্গিতে পৌঁছোনো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই ব্যায়ামের পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকা উচিত। অনেক সময়ে পোশাকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটারও ঝুঁকি থেকে যায়।
তারকা থেকে সাধারণের মধ্যে পিলাটিজ় এখন অনেকেরই পছন্দের ব্যায়াম। শরীরের নমনীয়তা বাড়ানো, পেশি মজবুত করা এবং শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখার জন্য এই অনুশীলন খুবই কার্যকর। তবে শুধু নিয়মিত ব্যায়াম করলেই হবে না, কী ধরনের পোশাক পরে পিলাটিজ় করছেন, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। আর সে বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন জাহ্নবী কপূর, সারা আলি খান, অনন্যা পাণ্ডের পিলাটিজ় প্রশিক্ষক নম্রতা পুরোহিত।
পিলাটিজ়ের পোশাক কেমন হবে? ছবি: সংগৃহীত
পিলাটিজ়ের জন্য পোশাক কেনার সময়ে কী কী মাথায় রাখবেন?
১. পিলাটিজ়ে শরীরের নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, ভারসাম্য এবং শ্বাসের উপর জোর দেওয়া হয়। তাই এমন পোশাক দরকার, যা শারীরিক চলনে কোনও বাধা সৃষ্টি করবে না। যদি বার বার পোশাক ঠিক করতে হয় বা তা অস্বস্তিকর হয়, তা হলে ব্যায়ামে মন দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। আরামদায়ক অ্যাথলেজ়ার ধরনের পোশাক শরীরকে আরাম দেয় এবং সহজেই অনুশীলন করা যায়।
২. লেগিংস বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকতে হবে। গায়ে সেঁটে থাকা প্যান্টই দরকার, কিন্তু তা বলে পায়ের চলন আটকে দেবে না। বরং আরামে চলাফেরা করার সুবিধা করে দেবে। পিলাটিজ়ের জন্য সাধারণত উঁচু কোমরের এবং ইলাস্টিক লেগিংস সবচেয়ে ভাল। এই ধরনের লেগিংস ব্যায়ামের সময়ে সরে যায় না। ফলে সহজে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পৌঁছোনো যায় এবং নড়াচড়াও স্বাভাবিক থাকে।
৩. ভারতের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই কাপড় বেছে নিতে হবে। ব্যায়ামের সময়ে এমনিতেই বেশি ঘাম হতে পারে। তাই পোশাকের কাপড় বাছাইয়ে সতর্ক থাকতে হবে। হালকা, বাতাস চলাচল করতে পারে, দ্রুত ঘাম শোষে সক্ষম এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, এমন কাপড়ই বেছে নিন।
৪. পিলাটিজ়ের পোশাক এমন ভাবেই বেছে নিন, যাতে তা ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠতে পারে। কেবল জিম নয়, তার বাইরেও পরা যাবে, এমন পোশাক বাছুন। আজকাল অনেকেই জিম বা পিলাটিজ়ের পোশাকের সঙ্গে ঢিলেঢালা শার্ট, জ্যাকেট বা স্কার্ফ পরেই অন্যান্য কাজে যান। আরামদায়ক ও কেতাদুরস্ত হতেই পারে এই সাজ।
আরও পড়ুন:
৫. খুব বেশি ঢিলেঢালা পোশাক কিনবেন না। পিলাটিজ়ের সময়ে গায়ে সেঁটে থাকা জামা না পরলে বেশ অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। অতিরিক্ত ঢিলেঢালা পোশাক হলে শরীরের নড়াচড়া ঠিক করে বোঝা যায় না।