গুলি করতে হবে না, কাউকে মারতে হবে না। কোমরে রাখা বন্দুকটা দেখালেই একশ শতাংশ ভোট হয়ে যাবে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োতে এমনটাই নিদান দিতে শোনা যাচ্ছে তৃণমূল নেতাকে। (ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার পত্রিকা) যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সরব হয়েছে বিরোধীরা। নিন্দার ঝড় উঠেছে দলের অন্দরেই।
ভিডিয়োটিতে তৃণমূলের চাপড়া ব্লক সভাপতি শুকদেব ব্রহ্মকে মাইক হাতে বক্তব্য রাখতে দেখা যাচ্ছে। তাঁকে বলতে যোনা যাচ্ছে, এক একটা বুথে একেক রকম ভাবে ভোট হয়। যদি কোনও জায়গায় মনে হয় যে বন্দুকের ব্যবহারের প্রয়োজন আছে, বন্দুক খোলা দেখাব না। বন্দুকটা গোঁজা থাকবে এখানে (পোশাক তুলে কোমড় দেখান)। জামাটা তুলব। দেখতে পাবে বন্দুকটা আছে। অনেক কাজ হবে কিন্তু। ফায়ার করতে হবে না। এটুকু দখলেই যথেষ্ট।
তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ফায়ার করার দরকার নেই। কাউকে মারারও দরকার নেই। এতে কিন্তু একশ শতাংশ ভোট আসবে বলে আমার বিশ্বাস।” যদিও শাসকদলের দাবি, ওই ভিডিয়োতে ব্লক সভাপতির বক্তব্য এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন পুরনো ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে চাপড়া। দিন কয়েক আগে বিজেপির মহিলা মোর্চার প্রচার চলাকালীন হামলা চালানো ও এক বিজেপি নেতাকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার রেশ মিটতে না মিটতে আবার বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল।
চাপড়ার বিজেপির প্রার্থী সৈকত সরকার বলেন, “এক জন নেতা প্রকাশ্যে বন্দুক নিয়ে ভোট করার নিদান দিচ্ছে। যদিও আমরা এতে অবাক হচ্ছি না কারণ, এটাই চাপড়ার তৃণমূল নেতাদের সংস্কৃতি। সবাই বুঝতে পারছে চাপড়ায় এতদিন তৃণমূল কী ভাবে জিতে আসছে। তবে এ বারে বন্দুক দেখিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নিতে এলে সাধারণ মানুষই প্রতিহত করবে।”
যদিও এ দিন শুকদেব বলেন, “এটা অনেক আগের ভিডিয়ো। আমার গায়ে সোয়েটার আছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগের একটি কর্মীসভার।” তিনি বলেন, “তবে কথাগুলো আমার না। কথাগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আমাকে ফাঁসানোর জন্য।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)